বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, বহরমপুর:
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ECI) এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তার আগেই বুধবার বহরমপুরের জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী নেতারা। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর মূল ব্যানারটি ঢেকে দিয়ে সেখানে ‘বহরমপুর মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কাকতালীয়ভাবে, বুধবারই এই কেন্দ্রে ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। আর এই মনোনয়ন পর্বের আগেই বহরমপুর কার্যালয়টির দখল নেয় এই শিবির।
আরও পড়ুনঃ প্রতীক পেলে তবেই উপনির্বাচনের প্রচারে যাব, নাহলে নয়; সরাসরি জানালেন মমতা
ঘটনাক্রম ও উপস্থিত নেতৃত্বের তালিকা
বুধবারের এই কার্যালয় দখল ও প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ঋতব্রত শিবিরের একাধিক প্রভাবশালী হেভিওয়েট বিধায়ক ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন:
| এলাকা ও পদমর্যাদা | উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব |
| সাংসদ ও সাংগঠনিক পদ | আবু তাহের খান (মুর্শিদাবাদের সাংসদ), অপূর্ণ সরকার (জেলা সভাপতি)। |
| বিধানসভা নেতৃত্ব | আখরুজ্জামান (বিধানসভার চিফ হুইপ ও বিধায়ক)। |
| অন্যান্য বিধায়কবৃন্দ | নিয়ামত শেখ (হরিহরপাড়া), ইমানি বিশ্বাস (সুতি)। |
| উপনির্বাচনী প্রার্থী | সফিউজ্জামান শেখ (রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনীত প্রার্থী)। |
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুতেও আলাদা হলো না ‘বন্ধুত্বের’ হাত; ৪৮ ঘণ্টা পর মহানন্দা থেকে উদ্ধার শিলিগুড়ির দুই ছাত্রের দেহ
‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাবনা
রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম—এই দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ‘কালীঘাট’ এবং ‘ঋতব্রত’—উভয় পক্ষই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের দাবি জানিয়েছে। কমিশন এখনও প্রতীক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
-
প্রতীক অনিশ্চয়তা: নির্বাচন কমিশন যদি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিতে পারে বা প্রতীক ফ্রিজ (জব্দ) করে, তবে দুই পক্ষকেই নির্দল বা বিকল্প কোনো চিহ্নে লড়তে হতে পারে।
-
আইনি লড়াই: কমিশন কোনো এক পক্ষের অনুকূলে রায় দিলে অপর পক্ষ তা চ্যালেঞ্জ করে অবিলম্বে দেশের শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা রাখছে।
মনোনয়নপত্র জমা পড়ার সাথে সাথে বহরমপুর দলীয় কার্যালয় হাতবদল হওয়ার এই ঘটনা উপনির্বাচনের মুখে মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিল।


