কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মাঝে বিশ্বকর্মা পূজা কেবল দেবশিল্পীর আরাধনাই নয়, বরং তা দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো রঙ-বেরঙের ঘুড়ি আর ‘ভোকাট্টা’র উল্লাসে মেতে ওঠার এই দিনটি বাঙালির কাছে ছোটবেলার স্মৃতি ও আবেগের এক মেলবন্ধন।
তবে প্রচলিত ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ২০২৬ সালে বিশ্বকর্মা পূজার তারিখে এসেছে এক ব্যতিক্রমী বদল। প্রায় প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হলেও, এই বছর বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হবে ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)।
আরও পড়ুনঃ হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘন্টা, তারপরেই খেল শুরু! ‘অর্ণব’ কি কড়া নাড়ছে?
কেন বদলে গেল পূজার তারিখ? পঞ্জিকার হিসাব
দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী বা সরস্বতীর মতো দেব-দেবীদের পূজার দিন চন্দ্র তিথির (Lunar Calendar) ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর ক্যালেন্ডারে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু বিশ্বকর্মা পূজার সময় নির্ধারিত হয় সূর্যের গতির ওপর ভিত্তি করে, যা সূর্য সিদ্ধান্ত বা সৌর পঞ্জিকার (Solar Calendar) অন্তর্ভুক্ত।
| পঞ্জিকার নিয়ম | সাধারণ বছরগুলিতে (১৭ সেপ্টেম্বর) | ২০২৬ সালের ব্যতিক্রমী হিসাব (১৮ সেপ্টেম্বর) |
| সূর্যের রাশি পরিবর্তন | ভাদ্র মাসের শেষ দিনে সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ (কন্যা সংক্রান্তি) করে। | ২০২৬ সালে সূর্যের কন্যা রাশিতে সংক্রান্তি বা প্রবেশ ঘটছে পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ রাতে/১৮ সেপ্টেম্বরের প্রারম্ভে। |
| তারিখ নির্ধারণ | সূর্য প্রবেশের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ১৭ সেপ্টেম্বরই ভাদ্র সংক্রান্তির পূজা উদযাপিত হয়। | সংক্রান্তির উদয়কাল ও নির্দিষ্ট জ্যাতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনার কারণে ২০২৬ সালে পূজার মূল সময় পড়ছে ১৮ সেপ্টেম্বর। |
আরও পড়ুনঃ অতি ভক্তির পর এই অনাদর! মানুষকে পরিবেশগত বিপদে ফেলার রাস্তা পরিষ্কার!
উৎসবের আমেজ ও ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্য
কারখানা, গ্যারেজ, কল-কব্জার ধূপ-ধুনোর গন্ধের পাশাপাশি বিশ্বকর্মা পূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো ঘুড়ি উৎসব। এই প্রযুক্তিনির্ভর ‘জেট যুগে’ আকাশে ঘুড়ির সংখ্যা কিছুটা কমলেও, শরতের পেঁজা তুলো মেঘের কোল ঘেঁষে সুতো কাটাকাটির আনন্দ এখনও ছোট-বড় সকলকেই সমানভাবে আকর্ষণ করে।
পঞ্জিকার এই সামান্য দিন পরিবর্তনের আমেজ বাঙালির পূজার গণনায় কোনো খামতি ফেলেনি; বরং ১৮ সেপ্টেম্বরের এই বিশ্বকর্মা পূজাই জানান দিচ্ছে—শরতের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা আর বেশি দূরে নেই।


