লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইরান-সমর্থিত হাউথি বাহিনীর ক্রমাগত হামলা ও বাণিজ্যে বাধার মুখে বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সত্ত্বেও সংকটকালে বন্ধুদেশ পাকিস্তানের প্রত্যাশিত সামরিক সাহায্য না পাওয়ায়, এবার পরোক্ষভাবে ইসরায়েল ও আমেরিকার সহায়তা নেওয়ার পথে হাঁটছে সৌদি আরব।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এখনো পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি রিয়াদ। তা সত্ত্বেও সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষা ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ সুরক্ষায় দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগের খবর চাউর হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে হামলার হুমকি! সতর্কতা জারি করল সৌদি সিভিল ডিফেন্স
ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিরক্ষা চুক্তির স্থিতি
বর্তমান সামরিক সংকট এবং বিভিন্ন দেশের অবস্থান সংক্রান্ত প্রধান তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| রাষ্ট্র / পক্ষ | কৌশলগত অবস্থান ও পদক্ষেপ |
| সৌদি আরব | পণ্যবাহী জাহাজে হাউথি হামলার প্রতিবাদ; ইসরায়েল ও আমেরিকার সেন্টকম (CENTCOM)-এর সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা সমন্বয়ের চেষ্টা। |
| পাকিস্তান | মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সত্ত্বেও হাউথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি। |
| হাউথি বাহিনী | লোহিত সাগরের কৌশলগত ‘মোখা’ বন্দর ও বাব আল-মান্দেব সংলগ্ন দ্বীপ দখল; বাণিজ্যপথে প্রভাব বিস্তার। |
| ইসরায়েল ও আমেরিকা | মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) মধ্যস্থতায় লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা প্রদানে সহায়তা। |
আরও পড়ুনঃ সরান হলো বঙ্গবন্ধুর ছবি, জিন্নার ছবি ঘিরে বিতর্ক ও ছেঁড়ার ঘটনায় উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মক্কা চুক্তি বিতর্ক ও পাকিস্তান কূটনীতি
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সম্মিলিত আক্রমণের শামিল বলে গণ্য করার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক হাউথি হামলার পর ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির অর্থ হাউথিদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান চালানো নয়। পাকিস্তানের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চরম কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের দৈনিক ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ এবং ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান কেবল আমেরিকা বা ইসরায়েল নয়, মিশর-সহ একাধিক উপসাগরীয় বন্ধু রাষ্ট্রকেও এই সংকট মোকাবিলায় পাশে চেয়েছেন।
লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সার্বিক আঞ্চলিক স্থায়িত্ব ফেরাতে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চরম উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


