দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য কোনো সক্রিয় নিম্নচাপের উপস্থিতি না থাকায় এবং টানা প্রখর সূর্যের তাপে লাফিয়ে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের তাপমাত্রা। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ৩০° থেকে ৩২° সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
আপাতদৃষ্টিতে আকাশ পরিষ্কার এবং সমুদ্র শান্ত থাকলেও বিজ্ঞানের নিরিখে জলভাগের এই অস্বাভাবিক উত্তাপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বার্তা বহন করছে।
আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখেই ইসলামপুরের নামী শপিং মলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড!
সমুদ্রের অস্বাভাবিক উত্তাপ ও আগামী দিনের ঝুঁকি
বঙ্গোপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর বৈজ্ঞানিক প্রভাব নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| আবহাওয়াগত সূচক | বর্তমান পরিস্থিতি | সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক প্রভাব |
| সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা | ৩০° থেকে ৩২° সেলসিয়াস (বা তার বেশি)। | বাষ্পীভবনের হার তীব্র বৃদ্ধি পাওয়া। |
| উইন্ড শিয়ার (Wind Shear) | তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। | ঘূর্ণাবর্ত সহজে ভেঙে না গিয়ে দ্রুত দানা বাঁধার সুযোগ। |
| সিস্টেমের শক্তি সঞ্চয় | উষ্ণ সমুদ্র কাজ করে প্রকাণ্ড ‘জ্বালানি’ হিসেবে। | সাধারণ নিম্নচাপ দ্রুত অতি-গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। |
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকর্মা পুজো করছে বামেরা! কলকাতা হাইকোর্ট দিল বড় নির্দেশ
কেন উদ্বেগজনক এই নীরব শক্তি সঞ্চয়?
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রখর রোদ ও দীর্ঘমেয়াদী মেঘহীন অবস্থার দরুন সমুদ্রের বুকে বিপুল পরিমাণে তাপশক্তি জমা হচ্ছে। জল যত বেশি উষ্ণ হবে, বাষ্পীভবন তত দ্রুত ঘটবে এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের সঞ্চার বাড়বে।
এই মুহূর্তে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা না থাকলেও, অনুকূল পরিবেশ পেলে এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো উদীয়মান ঘূর্ণাবর্ত অল্প সময়ের মধ্যেই এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে (Tropical Cyclone) পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের শান্ত রূপের আড়ালে জমে ওঠা শক্তি পর্যবেক্ষণ করতে প্রতি মুহূর্তে নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরগুলি।


