বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে এই দুই কেন্দ্রে প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ ঘিরে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘাসফুল (জোড়াফুল) প্রতীক নিয়ে ‘কালীঘাট শিবির’ ও ‘ঋতব্রত শিবির’-এর টানাটানির মাঝে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না করলে তিনি কোনো প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাবেন না।
রেজিনগরের দলীয় প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে কালীঘাটের বৈঠকে নেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকেই মূল প্রচারকের ভূমিকা ধরে নিয়েই ভোট ময়দানে নামতে হবে।
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুতেও আলাদা হলো না ‘বন্ধুত্বের’ হাত; ৪৮ ঘণ্টা পর মহানন্দা থেকে উদ্ধার শিলিগুড়ির দুই ছাত্রের দেহ
উপনির্বাচন ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক বিতর্ক
প্রতীক দখলের লড়াই ও উপনির্বাচনের পরিস্থিতি সংক্রান্ত মূল তথ্যসমূহ:
| ক্ষেত্র | বর্তমান স্থিতি ও ঘটনাক্রম |
| ভোটের দিনক্ষণ | আগামী ৬ অক্টোবর ভোট গ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোট গণনা। |
| ঘাসফুল প্রতীক বিতর্ক | ‘কালীঘাট’ এবং ‘ঋতব্রত’ উভয় শিবিরই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে জোড়াফুল প্রতীকের আবেদন জানিয়েছে। |
| প্রচার কৌশল | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা—প্রতীক সুনিশ্চিত হলে তবেই তিনি উপনির্বাচনে প্রচার সভায় নামবেন। |
আরও পড়ুনঃ ডলার কি সত্যিই শেষ? বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের ভূমিকা কি বদলে যাবে!
১০ বিদ্রোহী বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন
প্রতীক যুদ্ধের আবহেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের ওপর আইনি চাপ বৃদ্ধি করেছে কালীঘাট নেতৃত্ব। সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিধানসভা পদ খারিজের দাবিতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করা হয়েছে।
সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশল হিসেবে আপাতত শীর্ষ ১০ জন প্রভাবশালী মুখের নাম আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
যে ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে:
-
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
-
ফিরহাদ হাকিম
-
অরূপ রায়
-
জাভেদ খান
-
সন্দীপন সাহা
-
আখরুজ্জামান
-
শিউলি সাহা
-
সাবিনা ইয়াসমিন
-
বিপ্লব মিত্র
-
রথীন ঘোষ
কালীঘাট সূত্রে জানানো হয়েছে, তালিকায় থাকা অবশিষ্ট বিদ্রোহী বিধায়কদের মূল দলে ফিরে আসার সুযোগ দিতে কৌশলগত নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে। তবে শীর্ষ আদালতে মামলা গড়ানোয় উপনির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পেল।


