বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
উৎসবের মরশুমে আমজনতার হেঁশেলে স্বস্তি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। গত কয়েক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী চিনির দামে লাগাম টানতে পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী সাত দিনের মধ্যে খুচরো বাজারে চিনির দাম কমে কেজি প্রতি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে নামবে বলে কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি পিঁয়াজের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণেও একগুচ্ছ কঠোর ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কোল্ড স্টোরেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
আরও পড়ুনঃ সিপিএম-এর ‘আধিপত্যবাদী’ বলে তোপ আরএসপি-র মহম্মদ সফির; পাত্তা দিতে নারাজ সিপিএম
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি সহায়তার মূল রূপরেখা
পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ৩, ৫ ও ১১ সেপ্টেম্বর— তিন দফায় বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | সরকারি সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থার বিবরণ |
| মূল্য নির্ধারণ | পাইকারি বাজারে চিনির সর্বোচ্চ দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা নির্ধারিত। |
| প্রভাবিত বাজার | আগামী ৩ মাস (উৎসবের মরশুম জুড়েই) এই দর বজায় থাকবে। খুচরো বাজারে দাম থাকবে ৫৩-৫৫ টাকা। |
| লজিস্টিক সহায়তা | ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি ‘রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি’র গোডাউনে চিনি খালাসের অনুমতি। |
| বিকল্প বিপণন | ‘সুফল বাংলা’ স্টল ও রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে চিনি পৌঁছে দেওয়া হবে। |
আরও পড়ুনঃ শান্ত সমুদ্রের পেটে জমেছে প্রকাণ্ড শক্তি!! টগবগিয়ে ফুটছে বঙ্গোপসাগর
দাম বৃদ্ধির কারণ ও পিঁয়াজ নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ
উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে চিনির জোগান ব্যাহত হওয়ায় সম্প্রতি দর কেজি প্রতি ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা নিয়মিত পাইকারি ও খুচরো বাজারে পরিদর্শন চালাবেন, যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।
অন্যদিকে, খুচরো বাজারে কেজি প্রতি ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের ঝাঁঝ কমাতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে বিশেষ নজরদারি চালাবে। এছাড়া, পেঁয়াজ সংরক্ষণে স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্যে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ খোলারও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।


