বিশেষ আইনি ও অপরাধ সংক্রান্ত প্রতিনিধি, কলকাতা:
শালবনির উদ্বাস্তু জমি দখল ও বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে বড় সাফল্য পেয়েছে সিআইডি। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পেশ করা চার্জশিটে অভিষেকের দুই প্রাক্তন দেহরক্ষীসহ একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্যকে প্রধান হাতিয়ার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার পরই কালীঘাটের কার্যালয় থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি। আপাতত তিনি গোয়েন্দা হেফাজতে রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মোমবাতি রেডি আছে তো! ছুটির দিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই CESC-র ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার
তদন্তের মূল দিক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত ২ সেপ্টেম্বর পেশ করা চার্জশিটে ২০ জন সাক্ষীর বয়ান ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিআইডি যেসব তথ্য সামনে এনেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | সিআইডি-র চার্জশিট ও তদন্তের তথ্য |
| জমি দখল ও জালিয়াতি | শালবনিতে উদ্বাস্তুদের চাষাবাদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি জমি জালিয়াতি করে দখল করেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অনিতেশ পাইরা। |
| অর্থ লেনদেন | জালিয়াতির টাকার একটি বড় অংশ সুজয়ের মাধ্যমে সুমিত রায়ের দফতরে পৌঁছাত। সুমিতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০১৮-২০২১ সালের মধ্যে ৭ কোটি টাকা জমা পড়ার হদিস মেলেনি। |
| গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী | আলিপুরদুয়ার ও নদীয়ার বাসিন্দা অভিষেকের দুই প্রাক্তন দেহরক্ষী, দুই গাড়িচালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দালাল দেবাশিস দে ও সুব্রত হাজরা। |
| ভুয়ো দলিল | জমাজমির দলিলের বিক্রেতা ও ঠিকানা অনুসন্ধানে কাল্পনিক বা ‘ভুয়ো’ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২১ সালের পর প্রকৃত চাষীদের ভয় দেখিয়ে উচ্ছেদ করার অভিযোগ। |
আরও পড়ুনঃ কে শুনবে কার কথা; পুরভোটে ভোটবাক্সে জোট হচ্ছে বাম-তৃণমূলের! ইঙ্গিত নয়া সমীকরণের!
রক্ষাকবচ বাতিল ও আইনি পদক্ষেপ
সিআইডি সূত্রে খবর, জালিয়াতি চক্রটির মূল চাবিকাঠি ছিল সুমিত রায়ের নিয়ন্ত্রণে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অ্যাকাউন্টে জমা পড়া বিপুল অঙ্কের অর্থের সঠিক উৎস জানাতে ব্যর্থ হন তিনি।
তদন্তে অসহযোগিতা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে যাওয়ার কারণে রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আদালত সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ খারিজ করে দেয়। এর পরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি।


