বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, হাওড়া:
রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তনের চর্চার মধ্যেই এবার হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী দেউলটি স্টেশনের নাম বদলের প্রস্তাব জমা পড়ল দিল্লির দরবারে। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে করার দাবি জানিয়েছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দপ্তরে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুনঃ আদৌ কোনও জমি থাকবে! ভোট ময়দানে এত খেয়োখেয়ি বিরোধীদের
দাবি ও স্মারকলিপির মূল দিকগুলো
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল নতুন দিল্লিতে উপস্থিত হয়ে এই ডেপুটেশন জমা দেন।
-
নামকরণের ভিত্তি: সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর রচনায় সমাজের মেকি নীতি-নৈতিকতার ঊর্ধ্বে মানবতাবাদ ও নিপীড়িত মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। দেউলটি এলাকা তাঁর সাহিত্যচর্চার এক ঐতিহাসিক কেন্দ্রবিন্দু।
-
সাংস্কৃতিক দাবি: কথাশিল্পীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এই স্টেশনের নামকরণ ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ স্টেশন করার আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের মুখে স্বস্তি; চিনির দাম বাঁধল রাজ্য, নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে পেঁয়াজের দরও
দেউলটি ও শরৎচন্দ্রের সাময়িক স্মৃতিপট
দেউলটি স্টেশন থেকে সামান্য দূরত্বে রূপনারায়ণ নদীর তীরে সামতাবেড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শরৎ-স্মৃতি মন্দির।
| বিষয় ও ক্ষেত্র | ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব |
| বাসস্থানের সময়কাল | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই রূপনারায়ণের পাড়ের বাড়িতে প্রায় ১২ বছর বসবাস করেছিলেন। |
| বিখ্যাত সৃষ্টি | এই বাড়িতে বসেই তিনি ‘দেনা-পাওনা’, ‘বিপ্রদাস’ ও ‘শেষ প্রশ্ন’-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেন। |
| বর্তমান স্থিতি | বর্তমানে বাড়িটি রাজ্য হেরিটেজ কমিটি কর্তৃক সংরক্ষিত। সেখানে সাহিত্যিকের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও স্মৃতিচিহ্ন সযত্নে রাখা রয়েছে। |
স্টেশনের নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব কেন্দ্র সরকার ও রেল মন্ত্রক কীভাবে বিবেচনা করে, সেদিকেই এখন নজর সাহিত্যপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।


