কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মহানন্দা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারাল দুই স্কুলছাত্র। তবে জীবনের শেষ মুহূর্তেও একে অপরের সঙ্গ ছাড়েনি দুই সহপাঠী। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে নদী থেকে যখন তাদের নিথর দেহ ডাঙায় তোলা হয়, তখন দেখা যায় নিস্তেজ হাত দুটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রয়েছে একে অপরকে। মর্মান্তিক এই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ঘাটে উপস্থিত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উদ্ধারকারীরাও।
মৃত দুই ছাত্রের নাম প্রজ্ঞাজ্যোতি দাস এবং মহম্মদ সাফায়েল হোসেন নওসাদ। তারা উভয়েই ফুলবাড়ীর জটিয়াকালী এলাকার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র ছিল।
আরও পড়ুনঃ অতি ভক্তির পর এই অনাদর! মানুষকে পরিবেশগত বিপদে ফেলার রাস্তা পরিষ্কার!
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
ঘটনা ও উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | তথ্য ও বিবরণ |
| নিহতদের পরিচয় | প্রজ্ঞাজ্যোতি দাস (বাড়ি: মালদার ইংরেজবাজার) ও মহম্মদ সাফায়েল হোসেন নওসাদ (বাংলাদেশি নাগরিক)। |
| ঘটনার স্থান ও সময় | রবিবার বিকেলে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ী মহানন্দা ব্যারেজ সংলগ্ন নদী এলাকা। |
| ঘটনার প্রেক্ষাপট | শপিংমল থেকে কেনাকাটা শেষে হস্টেলেই ফেরার কথা থাকলেও তারা ব্যারেজে যায় এবং স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও নদীতে নামে। |
| উদ্ধার অভিযান | NDRF ও SDRF-এর যৌথ দল স্পিডবোট নিয়ে নদী থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টানা তল্লাশি চালিয়ে মঙ্গলবার দেহ দুটি উদ্ধার করে। |
আরও পড়ুনঃ তারিখ তো বদলায় না; তবে তুমি এক দিন পরে কেন আসছ ঠাকুর?
আশ্রয় ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বার্তা
পুলিশ ও হস্টেল সূত্রে জানা গেছে, হস্টেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিল তিন বন্ধু। নদীর কাছে গেলে তীব্র স্রোতে তিনজনই তলিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয়দের তৎপরতায় দিব্যাংশু সাহা নামের এক ছাত্র জীবিত উদ্ধার পেলেও চোখের পলকে তলিয়ে যায় প্রজ্ঞাজ্যোতি ও সাফায়েল।
ফাঁসিদেওয়া ও এনজেপি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সাফায়েলের পরিবারের জন্য জরুরি ভিসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনাটি বর্ষার মৌসুমে ব্যারেজ বা বিপজ্জনক জলাশয়ে সতর্কতার গুরুত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।


