কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা মেরে ফেলে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া ও স্কুলে ভাঙচুরের ঘটনায় আটক চার ছাত্রের ঠাঁই হলো জুভেনাইল হোমে (‘কোরক’)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত ছাত্রদের পরিবারের বা আইনজীবীদের তরফে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি।
রবিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের (JJB) বিচারক নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্তদের পক্ষে জামিনের আর্জি পেশ না করায় তাদের সংশোধনাগারেই থাকতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মন্দারমণির রিসর্টে হানা দিয়ে মধুচক্রের পর্দাফাঁস; উদ্ধার ৮ তরুণী, গ্রেপ্তার ৩ যুবক
ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মূল রূপরেখা
শিক্ষা প্রাঙ্গণে এই নজিরবিহীন হিংসার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক চিত্র |
| অভিযুক্তদের অবস্থা | শনিবার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ৪ জন ছাত্রকে আটক করে ‘কোরক’ হোমে পাঠায়। |
| আইনি পদক্ষেপ | রবিবারেও জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি। |
| ঘটনার বিবরণ | প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষককে তাড়াতে তাড়াতে এসে সজোরে ধাক্কা মারা হয় এবং মুখ থুবড়ে পড়ে তাঁর মাথা ফেটে যায়। |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশে স্কুলে বহিরাগত অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ ও চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু। |
আরও পড়ুনঃ ছুটির দিনে বাজার খারাপ করল বৃষ্টি! কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক অবস্থান
ঘটনাস্থলের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া একাধিক বহিরাগত যুবকও প্রধান শিক্ষককে ধাওয়া ও নিগ্রহের ঘটনায় জড়িত ছিল।
এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, শিক্ষা প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের উশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় স্তর থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। সেই সাথে চিহ্নিত বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


