বিশেষ আইনি ও সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
রাজ্য পুলিশের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া রিফাইনারির সামনে বাম শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ (CITU)-কে বিশ্বকর্মা পুজো করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুজো করার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারে পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বামেরা।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাটি উঠলে, তিনি নির্দেশ দেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার আইসি (IC)-কে এই পুজোর যাবতীয় অনুমতি প্রদান করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখেই ইসলামপুরের নামী শপিং মলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড!
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের নির্দেশ
ঘটনা ও আইনি লড়াইয়ের মূল তথ্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | আইনি ও প্রশাসনিক বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) গেটের সামনে, হলদিয়া (পূর্ব মেদিনীপুর)। |
| আবেদনকারী | সিআইটিইউ (CITU) ও বাম নেতৃত্ব। |
| বিচারপীঠ | বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ, কলকাতা হাইকোর্ট। |
| আদালতের রায় | পুজো আয়োজনের পক্ষে রায়; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ। |
আরও পড়ুনঃ আনন্দে মেতে উঠবে বাংলার শিল্পাঞ্চল; সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বদল আনল রাজ্য
প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে বামেদের আইনি তোপ
মামলাকারীদের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে পুলিশি ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থান ব্যবহারের অনুমতি দিলেও কেবল সিআইটিইউ যুক্ত থাকার কারণেই রাজ্য পুলিশ অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল।
আদালতের রায়ের পর আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন,
“ধর্ম পালন করা মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। একদিকে রাজ্য সরকার পুজো-পার্বণ নিয়ে বড় বড় কথা বলছে, আর অন্যদিকে সিআইটিইউ পুজো করছে বলে পুলিশ অনুমতি আটকে দিচ্ছে। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং মাননীয় বিচারপতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।“
উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজো। আদালতের এই নির্দেশের ফলে প্রশাসনিক বাধা কাটিয়ে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের তেল শোধনাগারের সামনে সাড়ম্বরে বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাম শ্রমিক সংগঠন।


