বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, বহরমপুর:
আসন্ন রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। বামফ্রন্টের অন্দরে আসন সমঝোতা ও ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আলাদাভাবেই লড়াইয়ের ময়দানে নামল বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল (RSP)। আজ বিপুল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন আরএসপি প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র মিশ্র।
মনোনয়নপত্র জমার শেষ লগ্নে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন বিকাশ বাবু। এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির বাইক বাহিনীর তাণ্ডব! চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএম অফিসে ভাঙচুর
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও প্রার্থীদের লড়াই
রেজিনগর উপনির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রার্থীদের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
| রাজনৈতিক দল / শিবির | মনোনীত প্রার্থীর নাম | নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও অবস্থান |
| আরএসপি (RSP) | বিকাশ চন্দ্র মিশ্র | বামফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে লড়াইয়ে অবতীর্ণ। |
| সিপিআই(এম) | সৈয়দ আসাদ আলী | বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে পূর্বে ঘোষিত প্রার্থী। |
| বিজেপি | শাখারভ সরকার | প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও প্রধান বিরোধী মুখের অন্যতম। |
| কংগ্রেস | আব্দুল্লাহিল কাফি | কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী। |
| তৃণমূল (বিভক্ত) | রবিউল আলম চৌধুরী / শেখ সফিউদ্দিন জামান | তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক প্রার্থিতা। |
আরও পড়ুনঃ বাসে উঠলেই ২০ টাকা! পুজোর পরেই বাসভাড়া বাড়তে পারে রাজ্যে
বামেদের অন্দরে বিরোধ ও আরএসপির যুক্তি
রেজিনগর আসনটিতে সিপিআই(এম) একতরফাভাবে তাদের প্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলীর নাম ঘোষণা করায় ক্ষোভ দানা বাঁধে বাম শরিকদের মধ্যে। শরিক দল আরএসপির নেতৃত্ব দাবি করে, ঐতিহাসিক ও সাংগঠনিকভাবে রেজিনগর অঞ্চলে তাদের নিজস্ব ভিত্তি শক্তিশালী। সমঝোতা বৈঠকেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থী হিসেবে বিকাশ চন্দ্র মিশ্রকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আরএসপি প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র মিশ্র জানান,
“কৃষক, শ্রমিক ও আমজনতার রুটি-রুজির আন্দোলন এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পতাকা উঁচিয়ে রাখতেই আমরা নির্বাচনে লড়াই করছি। রেজিনগরের সাধারণ মানুষ নীতি ও আদর্শের ওপর বিশ্বাস রেখেই আমাদের সমর্থন জানাবেন।“
একদিকে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অন্যদিকে বামফ্রন্টের দুটি দলের আলাদাভাবে লড়াইয়ের কারণে আগামী অক্টোবর মাসের এই উপনির্বাচন রাজ্য রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল।


