কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
“ক্ষমতায় থাকলেই মঞ্চ আলো করে বসে থাকব, আর ক্ষমতা চলে গেলে মানুষ ডিম ছুড়ে মারবে”—এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি ও লোকদেখানো জাঁকজমক এড়াতেই চলতি বছরের কোনো দুর্গাপূজার ফিতে কাটা বা উদ্বোধনী মঞ্চে না থাকার এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি হওয়া জনরোষ এবং পুজোর উদযাপনে আড়ম্বর এড়াতেই তাঁর এই আত্মউপলব্ধিমূলক পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ প্রতীক পেলে তবেই উপনির্বাচনের প্রচারে যাব, নাহলে নয়; সরাসরি জানালেন মমতা
সিদ্ধান্তের মূল দিকসমূহ
পাবলিক লাইফ ও পুজো উদ্বোধন নিয়ে বিধায়কের ব্যক্ত করা মূল বক্তব্য ও যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বিধায়কের বক্তব্য ও যুক্তি |
| উদ্বোধন থেকে দূরত্ব | এ বছর ক্লাব বা পুজো কমিটির আয়োজিত কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন না। |
| ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনরোষ | পদে থাকা অবস্থায় মঞ্চ দখল এবং পদ হারানোর পর জনগণের ক্ষোভের শিকার হওয়ার কালচারকে এড়িয়ে চলাই মূল উদ্দেশ্য। |
| বিকল্প অবস্থান | কোনো কৃত্রিম বা লোকদেখানো জাঁকজমকে অংশ না নিয়ে একজন সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবেই দুর্গাপূজার আবহে শামিল হবেন। |
আরও পড়ুনঃ ঐতিহ্য ‘রান্নাপুজো’; উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
সাধারণত দুর্গাপূজার মৌসুমে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পুজো উদ্বোধনের হিড়িক দেখা যায়। সেই আবহে একজন প্রবীণ বিধায়কের এমন কড়া ও আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা ও আমজনতার মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব এবং সাম্প্রতিক জনপ্রতিনিধি-কেন্দ্রিক জনরোষকেই পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।


