বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
জল্পনা অনেক দিন ধরেই চলছিল, অবশেষে চার দশকের পুরোনো প্রথায় ইতি টেনে বামফ্রন্টের অন্দরে কড়া বার্তা দিল সিপিএম। ১৯৮২ সাল থেকে চলে আসা শরিকি আসন বণ্টনের চেনা ‘সিটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ সমীকরণ আর মানতে নারাজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। ঐতিহ্যের অজুহাত সরিয়ে রেখে এবার থেকে যে কেন্দ্রে যে দলের বাস্তব সাংগঠনিক শক্তি ও লড়াইয়ের ক্ষমতা রয়েছে, তাকেই প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করে সেই বাস্তবমুখী নীতিরই প্রথম চাল চালল বড় শরিক।
আরও পড়ুনঃ ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’, ‘তৃণমূল ধ্বংস হবে’ মমতার জীবনে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল গৌতম দেবের ভবিষ্যদ্বাণী
শরিকি অসন্তোষ ও আলিমুদ্দিনের অবস্থান
রেজিনগর কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্টের এক শরিক দলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই পুরনো বৃত্ত ভেঙে সিপিএম সেখানে দলীয় প্রার্থী নামাতেই শরিকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই অসন্তোষকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে রাজি নয় সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব।
| বিষয় ও ক্ষেত্র | পুরনো প্রথা বনাম বর্তমান অবস্থান |
| আসন বণ্টন নীতি | ১৯৮২ সাল থেকে চলে আসা বাঁধাধরা ‘সিটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’। |
| সিপিএমের নতুন অবস্থান | স্রেফ নিয়মের খাতিরে দুর্বল শরিককে আসন না দিয়ে মাটির বাস্তব সাংগঠনিক শক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া। |
| প্রাথমিক প্রয়োগ | মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা। |
আরও পড়ুনঃ মমতায় ভরসা নেই, দলে দলে কংগ্রেসে যোগ তৃণমূলকর্মীদের
“বাস্তববাদী হতেই হবে”: রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য
বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে সিপিএম।
বিষয়ের ব্যাখ্যায় সিপিএম রাজ্য কমিটির এক সদস্য অত্যন্ত বিনম্র সুরে জানান, “আমরা শরিক বন্ধুদের আবেগকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আজকের দিনে আমাদের সবাইকে একটু বাস্তববাদী হতেই হবে। কোনো আসনেই কাউকে ছোট করার প্রশ্ন নেই; তবে যেখানে আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে লড়াই করার মতো জায়গায় আছেন, সেখানে সেই শক্তিকে কাজে লাগানোই তো ফ্রন্টের স্বার্থে ভালো।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে বুথ পাহারা—সব কাজই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করতে হয়। তাই অতীতের নিয়মে আটকে না থেকে মাটির বাস্তব পরিস্থিতি বিচারে একসঙ্গে পথ চলাই এখন বামফ্রন্টের মূল লক্ষ্য।


