বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদেরই হাতে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হলো এক সাধারণ পরিবারকে। কোচরলাপল্লী–গোরখপুর এক্সপ্রেসে (ট্রেন নম্বর ১২৫৯০) সামান্য বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে প্যান্ট্রি কারের কর্মী ও হকারদের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হলেন এক মহিলা যাত্রী। প্রকাশ্য দিবালোকে চলন্ত ট্রেনের কামরায় স্বামী ও কোলে থাকা ছোট সন্তানের সামনেই ওই মহিলাকে চটি ও চড় দিয়ে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বঙ্গবার্তা) সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মমতা আরও শূন্য! নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও; মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন রবিউল
ঘটনার বিবরণ ও চরম নিরাপত্তার অভাব
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সামান্য কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে আচমকাই প্যান্ট্রি স্টাফ ও ভেন্ডররা চড়াও হয় ওই পরিবারের ওপর। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির জেরে কোলে শিশুসন্তান থাকা অবস্থাতেই ওই মহিলা চলন্ত ট্রেনের খোলা দরজার দিকে ছিটকে পড়েন। সহযাত্রীদের তৎপরতায় মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও মহিলা এবং তাঁর পরিবার মারাত্মক মানসিক আঘাত পেয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই ট্রেনের সাধারণ কামরা থেকে শুরু করে দূরপাল্লার কোচে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। যাত্রীদের প্রশ্ন—রেলের অনুমোদিত কর্মচারীদের যদি এমন হিংস্র আচরণ হয়, তবে ট্রেনে মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?
আরও পড়ুনঃ ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’, ‘তৃণমূল ধ্বংস হবে’ মমতার জীবনে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল গৌতম দেবের ভবিষ্যদ্বাণী
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি
ঘটনাটি ঘিরে রেলওয়ে সুরক্ষাবাহিনী (RPF) এবং আইআরসিটিসি (IRCTC)-র নজরদারি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী কর্মী ও ভেন্ডরদের অতিরিক্ত দাম নেওয়া ও দুর্ব্যবহারের নানা অভিযোগ উঠলেও, যাত্রী শারীরিক নিগ্রহের এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত, সিসিটিভি (CCTV) দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট প্যান্ট্রি ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও বিঘ্নিত হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।


