বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, পূর্ব মেদিনীপুর:
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাটकीयতা চরমে পৌঁছাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হলো সেই কংগ্রেস প্রার্থীকে। পুলিশ সূত্রের খবর, একটি পুরনো খুনের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট)-র ভিত্তিতেই তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার মমতা শিবিরের দলীয় প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে) নিজের মনোনয়নপত্র হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেন। তার পরেই এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপিকে পরাস্ত করতে ও জাতীয় স্তরে জোটের স্বার্থে নন্দীগ্রামে তাঁদের দল আর কোনো প্রার্থী দেবে না এবং কংগ্রেসের মিলন প্রধানকেই পূর্ণ সমর্থন জানাবে।
আরও পড়ুনঃ কাকের বাসায় কোকিলের ডিম! নন্দীগ্রামে ৭৯৪ ভোট পাওয়া কংগ্রেসকে সমর্থন ‘সর্বহারা’ মমতার
ঘটনাপ্রবাহ ও বর্তমান চিত্র
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাক্রম নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সময় ও ঘটনাক্রম | প্রধান তথ্য ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ |
| মনোনয়ন প্রত্যাহার | মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে) হঠাৎ নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন। |
| জোট সমর্থনের ঘোষণা | প্রার্থী না থাকায় মমতার শিবির থেকে কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে সমর্থনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। |
| প্রার্থীর গ্রেফতারি | সমর্থনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরনো একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। |
| আইনি পদক্ষেপ | ধৃত প্রার্থীকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দ্রুত আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। |
আরও পড়ুনঃ বামকে ‘শূন্য’ বলে মমতা আজ নন্দীগ্রামে ‘শূন্য’; নন্দীগ্রামে প্রার্থীই রইল না মমতার!
উপনির্বাচনী লড়াইয়ে অনিশ্চয়তা
সঞ্চিতা প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর আচমকা সাক্ষাৎ ঘিরে আগেই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মূল বিরোধী শিবিরের সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীর এই গ্রেফতারি ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।
প্রার্থী জেলে থাকায় নির্বাচনী প্রচার ও আইনি লড়াই কীভাবে পরিচালিত হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশ ছাড়া এই গ্রেফতারি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে না বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।


