কুশল দাশগুপ্ত,
বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও হাওড়ার বাজারে জমে উঠেছে ঘুড়ি ও মাঞ্জার বিকিকিনি। তবে গতানুগতিক কেনাকাটার মাঝে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—’গেরুয়া’ রঙের ঘুড়ি। প্রথাগত নীল-সাদা কিংবা নানা রঙের পাশাপাশি চাঁদিয়াল, পেটকাটা থেকে শুরু করে সমস্ত চেনা নকশাতেই এবার গেরুয়া রঙের সংমিশ্রণে তৈরি ঘুড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
তবে নতুন রঙের বাজার মাতানোর মধ্যে নজর কেড়েছে ব্যবসায়ের মন্দা ভাব। বিক্রির সার্বিক গ্রাফ নিয়ে হতাশ পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীরা।
বাজারের হালহকিকত ও ব্যবসায়ীদের মূল ক্ষোভ
ঘুড়ি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও কারিগরদের দীর্ঘদিনের দাবি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বর্তমান চিত্র ও প্রভাব |
| নতুন প্রবণতা | চাঁদিয়াল, পেটকাটা ইত্যাদি প্রথাগত নকশার পাশাপাশি গেরুয়া রঙের ঘুড়ির আকাশছোঁয়া চাহিদা। |
| বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ | মোবাইল নির্ভরতা বৃদ্ধি ও পড়ার চাপ; গত বছরের তুলনায় বিক্রি কম প্রায় ১০-১৫%। |
| নিরাপত্তা ঝুঁকি | সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ‘চিনা মাঞ্জা’ বিকিকিনি, যা পথচারী ও বাইক আরোহীদের জন্য বিপজ্জনক। |
| শিল্পের দাবি | ব্যাঙ্ক ঋণ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিপাকে কারিগর পরিবারগুলি; তোলা হচ্ছে ‘কুটির শিল্প’-এর স্বীকৃতি প্রদানের দাবি। |
আরও পড়ুনঃ তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি; রাজ্যজুড়ে মাটির নিচে যাচ্ছে বিদ্যুতের লাইন, বন্ধ হবে হুকিং
ব্যবসায়ীদের মতে, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের ছাদমুখী হওয়ার প্রবণতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে শত বছরের এই লোকায়ত ঐতিহ্য যেমন ম্লান হচ্ছে, তেমনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন এর ওপর জীবিকা নির্বাহকারী শত শত কারিগর পরিবার।


