বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
শিশুখাদ্যের প্যাকেটে উল্লিখিত উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্যের সাথে ল্যাব পরীক্ষার ফলে মিল না পাওয়ার অভিযোগে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর আতশিকাঁচের নিচে এসে পড়েছে প্রস্তুতকারী সংস্থা নেসলে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংস্থাটির তৈরি বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বেবিফুডে পুষ্টি উপাদানের মাত্রায় তফাত এবং বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনাগুলি দু’বার পরীক্ষা করা হয় এবং উভয় ক্ষেত্রেই একই ধরনের গরমিল ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে এফএসএসএআই।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ও পরীক্ষার ফল
এফএসএসএআই-এর ল্যাব পরীক্ষায় মূলত তিনটি নির্দিষ্ট পণ্যে গরমিল পাওয়া গেছে:
| নির্দিষ্ট পণ্য | অভিযোগ ও ল্যাব পরীক্ষার প্রাপ্ত তথ্য |
| ইনফ্যান্ট নিউট্রিশন, ন্যান এক্সসেলা ও ল্যাক্টোজেন | প্যাকেটের গায়ে যে পরিমাণ ‘বায়োটিন’ থাকার দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষায় বাস্তবে তার চেয়ে কম মাত্রা পাওয়া গেছে। |
| ল্যাক্টোজেন প্রো ১ (Lactogen Pro 1) | এতে ব্যবহৃত ‘ওয়ে প্রোটিন’ অতি সহজপাচ্য বলে যে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার ফলে সেই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। |
আরও পড়ুনঃ ধ্বংসস্তূপে শিল্প তৈরির আশা! ‘দেবলোক ইঞ্জিনিয়ার’ আরাধনায় জমজমাট সিঙ্গুর
কড়া নিয়মনীতি ও সংস্থাসমূহের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ
শিশুখাদ্য সরাসরি শিশুদের স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত থাকায় এর প্রস্তুত ও বিপণন সংক্রান্ত আইনি মানদণ্ড অত্যন্ত কড়া। ২০১৮ সালের বিজ্ঞাপন ও দাবি সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসারে, কম্পাউন্ড ফুডের ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে ‘১০০% বিশুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
-
নেসলের বক্তব্য: এফএসএসএআই-এর নোটিসের জবাবে নেসলে জানিয়েছে, তারা খাদ্য সুরক্ষার সমস্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পণ্য তৈরি করে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী উত্তর দেওয়া হচ্ছে। আপাতত এই পণ্যগুলির বিক্রি বন্ধের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
-
অন্যান্য সংস্থার ওপর কোপ: খাদ্যপণ্যের গুণমান বজায় রাখতে সম্প্রতি এফএসএসএআই একাধিক বড় সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। গত মাসেই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনী দাবির অভিযোগে ডাবরের মধু, অ্যাপেল সিডার ভিনিগার, তিল তেল, ঘি, নারকেল জলসহ একাধিক পণ্যের বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।


