বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, কলকাতা:
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের সমীকরণে নাটকীয় মোড়। শুক্রবার পিডব্লিউডি তাঁবুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকা সাক্ষাতের পর হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে)।
শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকলেও তার আগের দিনই এই সিদ্ধান্তের ফলে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা শিবিরের আর কোনো প্রার্থী রইল না। ঘটনাচক্রে, প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আসন্ন উপনির্বাচনে তাঁর দল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে।
আরও পড়ুনঃ নাটকে ‘নতুন মোড়’, মমতার ফুলও গেল প্রার্থীও গেল নবান্নে শুভেন্দুর ঘরে
ঘটনাক্রম ও উপনির্বাচনী পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঘটনাক্রম ও বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাক্রম |
| মনোনয়ন প্রত্যাহার | শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হলদিয়ার এসডিও (SDO) দফতরে গিয়ে প্রার্থীর নাম প্রত্যাহার। |
| নতুন রাজনৈতিক অবস্থান | নন্দীগ্রামে কোনো ‘ডামি’ প্রার্থী না থাকায় এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। |
| নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত | প্রতীক ও দলীয় নাম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক স্থগিত এবং দুই শিবিরের নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ। |
আরও পড়ুনঃ তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি; রাজ্যজুড়ে মাটির নিচে যাচ্ছে বিদ্যুতের লাইন, বন্ধ হবে হুকিং
প্রার্থীপদ প্রত্যাহার ও নবান্নের সমীকরণ
শুক্রবার সকাল থেকেই সঞ্চিতা প্রধানের গতিবিধি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের কিছু না জানালেও বেলার দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তিনি সরাসরি মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র তুলে নেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব এবং প্রার্থী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের প্রার্থী না থাকায় আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের লড়াই মূলত চতুর্মুখী থেকে অন্য রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে এগিয়ে গেল।


