কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উপনির্বাচনের মুখে প্রতীক হাতছাড়া ও নাম পরিবর্তনের সংঘাতের মধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল। শুক্রবার রাতে ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং-১ এবং সাকোয়াহারা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে আনুষ্ঠানিক কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মূল নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ফ্রিজ হয়ে যাওয়া এবং ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (MAITC) নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক পাওয়ার পরপরই নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের এই দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রেজিনগরে ‘অস্তিত্বহীন’ মমতা TMC; মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন রবিউল
ধূপগুড়িতে দলবদল ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার রাতে ধূপগুড়ি শহর কংগ্রেস কার্যালয়ে এক কর্মসূচির মাধ্যমে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। দলবদলের প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | সাংগঠনিক চিত্র ও নেতাদের বক্তব্য |
| যোগদানকারী এলাকা | ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং-১ এবং সাকোয়াহারা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। |
| উপস্থিত নেতৃত্ব | ধূপগুড়ি টাউন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি হরিশ রায়, নবিউল ইসলাম, আজিবুল ইসলাম ও অজয় বসাক। |
| কংগ্রেসের যুক্তি | “বিজেপি-বিরোধী লড়াই জোরদার করতে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থায়িত্বের কথা ভেবেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা কংগ্রেসকে বেছে নিচ্ছেন।” |
আরও পড়ুনঃ ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’, ‘তৃণমূল ধ্বংস হবে’ মমতার জীবনে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল গৌতম দেবের ভবিষ্যদ্বাণী
শীর্ষস্তরের সমীকরণ ও নীচুতলার প্রভাব
নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের তরফে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন এবং রাহুল গান্ধীর তরফ থেকে বার্তা পাওয়ার পর জাতীয় স্তরে জোট বা একীভূত হওয়ার নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণের মাঝেই নীচুতলার কর্মীদের সরাসরি কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বদল ও দলীয় সংঘাতের ফলে সাধারণ কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে দোলাচল তৈরি হয়েছে, ধূপগুড়ির এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। উপনির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে এই দলবদল ধূপগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত একে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বৃদ্ধি বলেই মনে করছে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।


