বিশেষ ধর্মীয় প্রতিনিধি:
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালনের পর শুক্লাপক্ষের একই তিথিতে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় রাধাষ্টমী। বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুণ্যতিথিতেই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পরম শক্তি ও চিরসঙ্গিনী শ্রীরাধিকা। আজ, ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে এই পবিত্র উৎসব।
শাস্ত্র মতে, আজকের এই শুভ তিথিতে বেলা ১১টা ১৯ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়টিকে পূজার শুভক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আপনি বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন না তো! প্রশ্নের মুখে নেসলের বেবি ফুড
রাধাষ্টমীর বিশেষ পূজাবিধি ও নিয়মাবলী
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী এই পুণ্যতিথিতে নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান মেনে ব্রত পালন করলে সুফল লাভ হয়। পূজার মূল আচারগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| পূজার উপাদান ও ক্ষেত্র | শাস্ত্রীয় নির্দেশ ও রীতিনীতি |
| বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা | শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার যুগল মূর্তি স্থাপন করে পূজা সম্পন্ন করতে হয়। |
| বস্ত্রালংকার | ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে হলুদ এবং শ্রীরাধারাণীকে গোলাপি রঙের নতুন বস্ত্র অর্পণ করা শুভ। |
| পূজোপচার | রাধা-কৃষ্ণকে অন্তত আটটি উপাচার (অষ্টোপচার) নিবেদন করে পূজা করা উচিত। |
| প্রিয় ভোগ ও অর্ঘ্য | শ্রীরাধারাণীর অত্যন্ত প্রিয় খাবার রাবড়ি ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় এবং চরণকমলে ময়ূরের পালক অর্পণ করা শ্রেয়। |
আরও পড়ুনঃ ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’, ‘তৃণমূল ধ্বংস হবে’ মমতার জীবনে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল গৌতম দেবের ভবিষ্যদ্বাণী
রাধাষ্টমীতে আহারবিধি ও নিষেধাবলী
অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় পার্বণের মতোই রাধাষ্টমীতে সাত্ত্বিক নিয়ম মেনে উপবাস ও আহার গ্রহণের বিধান রয়েছে। ভক্তদের জন্য শাস্ত্রীয় বর্জনীয় খাবারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
-
তামসিক সবজি ও শাক বর্জন: পুষ্টি ও ধর্মীয় কারণে বর্ষাকালে বিশেষ কিছু শাকসবজি এড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এই দিনে পুঁইশাক, কলমিশাক, লালশাকের পাশাপাশি লাউ ও বেগুন খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। শাস্ত্র মতে, এগুলি তামসিক গুণসম্পন্ন খাবার।
-
তেতো ও কষাটে খাবার: রাধাষ্টমী তিথিতে কোনো প্রকার তেতো (উচ্ছে, করলা ইত্যাদি) বা কষাটে স্বাদের খাবার গ্রহণ করা অনুচিত।
-
আমিষ খাবার: যেকোনো প্রকার তামসিক আহার বা আমিষ গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ভক্তরা এদিন নির্জলা বা ফলমূল খেয়ে উপবাস পালন করেন এবং মধ্যাহ্ন বা সায়াহ্নে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণের মাধ্যমে রাধারানীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।


