বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
থাইল্যান্ড থেকে উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে দানা বাঁধছে নতুন এক নিম্নচাপ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর ফলে রাজ্য থেকে বর্ষার বিদায়প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গভীর নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে।
আরও পড়ুনঃ রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে না ভারত; মার্কিন ‘চোখ রাঙানিকে’ ফুৎকারে উড়িয়ে দিল ভারত
সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা (Weather Systems)
বর্তমানে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়া প্রক্রিয়ার প্রভাবে বাংলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে:
| সক্রিয় ওয়েদার সিস্টেম | বিস্তৃতি ও গতিপথ |
| মূল নিম্নচাপ অঞ্চল | উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকা, যা শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশা উপকূলমুখী। |
| প্রথম মৌসুমি অক্ষরেখা | সৌরাষ্ট্র থেকে রাঁচি ও দিঘা হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। |
| দ্বিতীয় অক্ষরেখা | সিকিম থেকে উত্তরবঙ্গ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত। |
আরও পড়ুনঃ আপনি বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন না তো! প্রশ্নের মুখে নেসলের বেবি ফুড
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা ও নামকরণ
আমেরিকার আবহাওয়া মডেল (GFS) ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই গভীর নিম্নচাপটি পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে মৌসম ভবন (IMD) এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনো ঘূর্ণিঝড়ের আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করেনি। যদি এই সিস্টেমটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) তালিকা অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’ (Arnab)—যা বাংলাদেশের দেওয়া নাম।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ঝুঁকি
যদিও নিম্নচাপের মূল কেন্দ্রটি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে না, তবে এর শক্তিশালী ‘আউটার রেইনব্যান্ড’-এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
সর্বাধিক বৃষ্টির সময়কাল: ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হতে পারে।
-
সতর্কতায় যেসব জেলা: পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি ও নদিয়া।
উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল-ভিত্তিক পূর্বাভাস হওয়ায় আবহাওয়ার নতুন আপডেট অনুযায়ী পরিস্থিতি বদলাতে পারে।


