বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিনিধি:
বাঙালি মননে চিরস্মরণীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর যোগসূত্র কেবল এক ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা ব্রিটিশবিরোধী লড়াই ও জাতীয় সংহতির এক অনন্য প্রতীক। ১৯২৫ সালের বর্মার (বর্তমান মিয়ানমার) মান্দালয় জেল থেকে শুরু করে ১৯৪০ সালের কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেল—সুভাষচন্দ্রের উদ্যোগে বন্দিশালায় আয়োজিত দুর্গাপুজো পরাধীন ভারতে বিপ্লবীদের একতাবদ্ধ করার ঐতিহাসিক মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ অনন্য বাঙালি রসনা, ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া; মডিউলার কিচেনে ‘রান্না পুজো’ ও ‘অরন্ধন’
মান্দালয় জেলে অনশন ও পুজো অর্চনার লড়াই
১৯২৪ সালে গ্রেফতারের পর ১৯২৫ সালের শুরুতে মাত্র ২৮ বছর বয়সে সুভাষচন্দ্র বসুকে বর্মার মান্দালয় কারাগারে রাজবন্দি হিসেবে পাঠানো হয়। সেই বছরের অক্টোবর মাসে সহ-বন্দিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জেলের ভেতরেই দুর্গাপুজোর পরিকল্পনা করেন।
| ঘটনা ও ক্ষেত্র | ঐতিহাসিক পটভূমি ও তথ্য |
| ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা | জেল কর্তৃপক্ষ পুজোর খরচ দিতে অস্বীকার করলে সুভাষচন্দ্র ও অন্য রাজবন্দিরা আমরণ অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। |
| স্মৃতিকথায় পুজো | সাহিত্যিক হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথা (‘স্মৃতি-বিস্মৃতি’, রাখাল বেণু সম্পাদিত) থেকে জানা যায়, পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে গৌরবর্ণ যুবক সুভাষচন্দ্র নিজেই মন্ত্রোচ্চারণ করে পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছিলেন। |
| সান্ত্রীদের শৃঙ্খলা | জেলের সান্ত্রী থেকে শুরু করে সুপারিনটেনডেন্ট—সকলেই নীরবে দাঁড়িয়ে সুভাষচন্দ্রের সেই ভক্তিপূর্ণ রূপ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। |
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে আজ অকাল দীপাবলি; ৭৬-এ নরেন্দ্র মোদী
প্রেসিডেন্সি জেলে সংহতির প্রতীক
মান্দালয় জেলের তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া ও অসুস্থতার (যক্ষ্মা) পর দেড় দশক বাদে, ১৯৪০ সালে সুভাষচন্দ্র যখন প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি, তখনও তিনি জেলের ভেতরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন।
সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চোখের সামনে জেলের বন্দিদের এক ছাতার তলায় এনে পুজোর এই আয়োজন কেবল ধর্মীয় আচার ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বলিষ্ঠ বার্তা। পরাধীন ভারতে নেতাজির এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আজও বাঙালির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে এক প্রেরণা হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।


