সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রতিনিধি:
ভাদ্র সংক্রান্তির ভোরে শরতের আগমনী বার্তার সঙ্গেই সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় রূপকার ও শিল্প-স্থাপত্যের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা। ভারী শিল্প কারখানা, মোটর গ্যারেজ, কাজের টেবিল থেকে শুরু করে আধুনিক আইটি হাব—কর্মক্ষেত্র ও কাজের যন্ত্রপাতির সুরক্ষায় এদিন সর্বত্রই পূজিত হন দেবশিল্পী। তবে এই আরাধনার সঙ্গে আনন্দ উদযাপনের যে অনন্য অনুষঙ্গটি জড়িয়ে রয়েছে, তা হলো ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব।
আরও পড়ুনঃ জিও নেটওয়ার্ক নিয়ে ক্ষোভ! 4G-5G শুধু নামেই, কল ড্রপে নাজেহাল গ্রাহক; বাড়ছে রিচার্জের দাম
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকাল থেকেই বাংলার নীল আকাশে ডানা মেলে হরেক রঙের ঘুড়ি। পাড়ার ছাদ, গলি আর মাঠ-ঘাট মুখরিত হয়ে ওঠে ‘ভো কাট্টা’ বা ‘কাটাকুটি’-র বাঁধভাঙা উল্লাসে।
বিশ্বকর্মা পুজো ও ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক
দেবশিল্পীর পুজোর দিনেই ঘুড়ি ওড়ানোর এই বিশেষ রীতির পেছনে পুরাণ, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে:
| ক্ষেত্র | পটভূমি ও তাৎপর্য |
| পৌরাণিক ও কারিগরি সংযোগ | পুরাণে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা বিমান (যেমন পুষ্পক রথ) ও রথ নির্মাণের রূপকার। হালকা বাঁশের বাতি, পাতলা কাগজ ও সুতোর ভারসাম্যে ঘুড়ি বানানো ও ওড়ানো একপ্রকার প্রাচীন পদার্থবিদ্যা ও নিখুঁত কারিগরি ক্ষমতার প্রতীক। |
| নবাবী প্রভাব ও সামাজিক ঐতিহ্য | ১৮ শতকে কলকাতার জমিদারদের সুবাদে ঘুড়ি উড্ডয়ন চর্চা লাভ করে। পরবর্তীতে লখনউয়ের শেষ নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ মেটিয়াবুরুজে নির্বাসিত হওয়ার পর কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ শিল্পে রূপ নেয়। |
| শ্রমিক ও কারিগরদের ছুটি | বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কলকারখানা ও কর্মশালা বন্ধ থাকায় কারিগর এবং শ্রমিকরা উদযাপনের অংশ হিসেবে ছাদে সমবেত হয়ে ঘুড়ির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতেন, যা কালক্রমে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। |
শরতের মেঘমুক্ত নীল আকাশ, বিশ্বকর্মা পুজোর ঢাকের আওয়াজ এবং মাতানো ঘুড়ি ওড়ানোর লড়াই—সব মিলিয়ে ভাদ্র সংক্রান্তির এই দিনটি আবহমান বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি ও আধুনিক জীবনযাত্রার এক অনন্য মিলনবিন্দু।


