বিশেষ আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বারাসত জেলা ও দায়রা আদালতে তৃতীয় চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। প্রায় ১,৫০০ পাতার এই সুবিশাল চার্জশিটে দেবরাজ চক্রবর্তীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) যৌথ অভিযানে দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হন। এরপর ৬ অগস্ট প্রথম চার্জশিট পেশের পর, গ্রেফতারির ৭০ দিনের মাথায় এই নতুন চার্জশিট জমা দেওয়া হলো।
আরও পড়ুনঃ জোড়াফুল কার? ফ্রিজ় হবে জোড়াফুল? কমিশনের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল
অভিযোগের উৎস ও তদন্তের বিবরণ
রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার সূত্রপাত। মামলার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | পুলিশ ও অভিযোগকারীর মূল দাবি |
| অভিযোগের মূল ভিত্তি | ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজের দাখিল করা হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগ। |
| সম্পত্তি হস্তান্তর | জগদীশপুর, রাজারহাট, থাকদাড়ি, তেঘরিয়া, শ্যামনগর, সাতগাছি এবং কালিম্পং-এর আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ভোটের আগে বেনামে ও দানপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তরের অভিযোগ। |
| আর্থিক লেনদেন | তদন্তে দাবি করা হয়েছে, দেবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে এবং প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এ জমা পড়েছে। |
| সংস্থাভিত্তিক তদন্ত | ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামক সংস্থার মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং বাগুইআটি-কেষ্টপুর অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সিন্ডিকেটের টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠানোর অভিযোগ। |
আরও পড়ুনঃ ব্রিক্স-এ ‘স্ট্রোক’ হয় জিনপিঙের, দিল্লিফেরত সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টও অসুস্থ
রুজু হওয়া ধারা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
বারাসত আদালতে জমা দেওয়া এই নতুন চার্জশিটে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মূলত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর আওতায় একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে:
-
সংগঠিত অপরাধ ও ষড়যন্ত্র: সংগঠিত অপরাধ (Organised Crime), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
-
জালিয়াতি ও প্রতারণা: জাল দলিল তৈরি, প্রতারণা, অসাধু উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং জাল সিল ব্যবহার।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত অর্থের গভীর শিকড় অনুসন্ধান করতে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও খোলা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনে পুলিশ এই মামলায় পরিপূরক (সাপ্লিমেন্টারি) চার্জশিট পেশ করবে।


