আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম:
রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে রাজধানী মস্কো ও তার আশেপাশের অঞ্চলে নজিরবিহীন ও ভয়ংকর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতভর এবং রবিবার ভোরে মস্কো লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি তেল শোধনাগার এবং একাধিক আবাসিক ভবন। এই ঘটনায় অন্তত ২ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
মস্কোর মেয়র সার্জেই সোবিয়ানিন এটিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এযাবৎকালের “সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এবং নির্বাচন ভণ্ডুল করতেই কিয়েভ এই পরিকল্পনা করেছিল, যদিও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ আমজনতা তো কোন ছাড়; আদবাণী, জয়শঙ্কর থেকে নির্বাচন কমিশনার! দিল্লিতে ভিভিআইপি-দের নোটিস ধরাল ইসি
ভোটগ্রহণ ও ড্রোন হামলার মূল চিত্র
নির্বাচনের শেষ দিনে ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | সাম্প্রতিক তথ্য ও আপডেট |
| আক্রমণের মাত্রা | মস্কো ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,০০০টি ড্রোনের হামলা; তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি। |
| হতাহতের সংখ্যা | অন্তত ২ জনের মৃত্যু, প্রায় ২০ জন আহত (মস্কোর গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভের তথ্যসূত্রে)। |
| রাজনৈতিক অবস্থান | ক্রেমলিনের মতে এটি নির্বাচন ভণ্ডুলের চক্রান্ত; কিয়েভ এটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত বলে দেখছে। |
| দখলকৃত অঞ্চলে ভোট | ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোতেও ভোটগ্রহণ চালাচ্ছে রাশিয়া, যা বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে কিয়েভ। |
আরও পড়ুনঃ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; বিধানসভায় মমতাকে হারানোর ছক ক্যামাক স্ট্রিট থেকেই!
যুদ্ধের আবহ ও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর এবারই প্রথম রাশিয়াতে সংসদীয় (ডুমা) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেমলিন ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, যুদ্ধ চলাকালীন সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রদর্শনের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরছেন।
-
রাজনৈতিক দলসমূহ: শাসকদল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’-র পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপিআর (LDPR), এ জাস্ট রাশিয়া এবং ‘নিউ পিপল’ এতে অংশ নিলেও এগুলোকে ক্রেমলিন-বান্ধব হিসেবেই মনে করা হয়।
-
একমাত্র বিরোধী কণ্ঠ প্রতিহত: ইউক্রেন যুদ্ধের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করা এবং আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধানের দাবি তোলা একমাত্র প্রধান দল ‘ইয়াবলোকো’-কে নির্বাচনের ঠিক আগেই রুশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিষিদ্ধ ও ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভয়াবহ ড্রোন হামলা সত্ত্বেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় অনড় রয়েছে মস্কো প্রশাসন।


