আন্তর্জাতিক ও বিনোদন ডেস্ক:
২০১৪ সালের ১ এপ্রিল। পানামার পাহাড়ি শহর বোকেতের নৈসর্গিক ‘এল পিয়ানিস্তা ট্রেইল’-এ হাইকিং করতে বেরিয়েছিলেন দুই ডাচ তরুণী—২১ বছর বয়সী ক্রিস ক্রেমার্স এবং ২২ বছর বয়সী লিসান ফ্রুন। সাধারণ এক বিকেলের হাঁটা যে তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আজও এই “পানামা জঙ্গল রহস্যের” বহু প্রশ্নের উত্তর অজানা।
জরুরি নম্বরে ফোন ও ব্যাকপ্যাক উদ্ধার
নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পানামার জঙ্গলজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁদের ফোন ও ক্যামেরার তথ্য থেকে কিছু চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে আসে:
| উদ্ধারকৃত আলামত | প্রাপ্ত তথ্য ও অস্বাভাবিক ঘটনা |
| মোবাইল ফোনের ডাটা | নিখোঁজের পর ১ ও ২ এপ্রিল ডাচ ও পানামানিয়ান জরুরি নম্বরে (112 এবং 911) একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করা হয়। তবে নেটওয়ার্ক না থাকায় সংযোগ মেলেনি। পরবর্তীতে পিন কোড (PIN) ছাড়াই আইফোন চালুর চেষ্টা দেখা যায়। |
| রহস্যময় ব্যাকপ্যাক | প্রায় ১০ সপ্তাহ পর নদীর ধারে স্থানীয় এক নারী লিসানের ব্যাকপ্যাকটি উদ্ধার করেন। অদ্ভুতভাবে, ব্যাকপ্যাকের ভিতরের ক্যামেরা, মোবাইল, সানগ্লাস ও নগদ টাকা সম্পূর্ণ শুষ্ক ও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। |
৮ই এপ্রিলের রহস্যময় ৯০টি ছবি
লিসানের ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ডাটা তদন্তকারীদের আরও হতবাক করে দেয়। ১ এপ্রিলের পর ৮ই এপ্রিল মাঝরাতে (রাত ১টা থেকে ৪টের মধ্যে) প্রায় ৯০টি ছবি তোলা হয়েছিল।
-
কী ছিল সেই ছবিতে? ঘন অন্ধকারের মধ্যে তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায় পাথর, গাছের ডালপালা, খাদের ধার এবং প্লাস্টিকের টুকরো। একটি ছবিতে ক্রিসের মাথার পিছন দিকের চুল দেখা যায়।
-
কেন তোলা হয়েছিল ছবি? ধারণার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়—হয়তো তারা উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার বা দলকে ফ্ল্যাশের মাধ্যমে সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, অথবা খাদের অন্ধকারে পথ খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।
আরও পড়ুনঃ হারিয়ে যাচ্ছে কি শৈশবের চড়ুই? কংক্রিটের ভিড়ে পরিচিত ডাকটা বাঁচিয়ে রাখার আকুল আবেদন
মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার ও অমীমাংসিত প্রশ্ন
ব্যাকপ্যাক উদ্ধারের পর অনুসন্ধানী দল নদীর গতিপথ বরাবর দুই তরুণীর টুকরো জামাকাপড় ও দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করে। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায় দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া একটি জুতোয় লিসানের পায়ের হাড্ডি এবং অপর একটি হাড্ডি ক্রিসের। তবে তাঁদের সম্পূর্ণ দেহাবশেষ আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অফিসিয়াল তদন্তে এটিকে একটি “দুর্ঘটনা” (পথ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া বা অনাহারে মৃত্যু) বলে উল্লেখ করা হলেও, অনেক বিশেষজ্ঞ এবং তাঁদের পরিবার আজও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি। নদীর স্রোতে মানবদেহ বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, ব্যাকপ্যাকের অক্ষত অবস্থা এবং রাতের অন্ধকারে তোলা ছবির রহস্য তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয় কি না—তা নিয়ে বিতর্ক আজও চলমান।
পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন:
প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি বা মানুষের চক্রান্ত—২০১৪ সালের এই সত্য ঘটনা সম্পর্কে আপনার কী মতামত? কমেন্টে জানান।


