বাংলায় ভোট ঘোষণার পর থেকে প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আমলা স্তর থেকে পুলিশ…বাদ যায়নি কেউই। এবার রিটার্নিং অফিসারদের সরিয়ে দিল কমিশন। মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রস্তাব মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং অফিসারদের বদলির চিঠিতে সেরকমই উল্লেখ করা হয়েছে। বদলি হওয়া রিটার্নিং অফিসারদের বুধবারের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের বিমান দুর্ঘটনা! কলোম্বিয়ায় ভেঙে পড়ল সামরিক বিমান
সোমবারই রিটার্নিং অফিসার বদলি সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করে কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে ১৯ মার্চ এবং ২৩ মার্চ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যে ইমেল করেছিলেন,তার জবাবে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, অর্থাৎ, ২৪ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে তালিকায় নাম থাকা সমস্ত রিটার্নিং অফিসারকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেতে হবে। বুধবার ২৫ মার্চ সকাল ১১টা থেকে প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা। গোটা বিষয়টার দিকে কড়া নজর দিতে বলা হয়েছে কমিশনের তরফে।
রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে রিটার্নিং অফিসার থাকে। অর্থাৎ ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসার থাকে। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই এসিডও অর্থাৎ মহকুমাশাসক। উল্লেখ্যযোগ্যভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা ধরে আর ও-দের বদল করা হয়েছে। সবথেকে বেশি উত্তর ২৪ পরগনার রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে কমিশন। মোট ১৩ জনকে বদলি করা হয়েছে। তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর। তমলুকে এসডিও হয়েছেন সৌভিক মুখোপাধ্যায়, বিধাননগরে প্রিয়াংশা গর্গ, মুর্শিদাবাদে পূজা মীনা। তুফানগঞ্জে শান্তনু কর্মকার। অন্যদিকে, ভবানীপুরে ল্যান্ড অ্যান্ড রেকর্ডসের অতিরিক্ত ডিরেক্টর হিসাবে নাম রয়েছে সুরজিত রায়ের।
আরও পড়ুনঃ বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ! মেজাজ হারালেন মেয়র গৌতম
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয় রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। এরপর পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল হয়েছে। পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি থেকে একাধিক জেলাশাসক, ডিআইজিকে অপসারণ করা হয়েছে। কমিশনের এই বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



