বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
দ্বিতীয়ার বিকেলেই ঢাকের বাদ্যি আর আলোর রোশনাইয়ে জমজমাট হয়ে উঠল লেক টাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। জাঁকজমকপূর্ণ এই পুজোর উদ্বোধন করতে খোদ উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবারের শ্রীভূমির ছবিতে এক বিরাট পরিবর্তন—কোথাও নেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ছবি বা পোস্টার। পাড়ার লোক ও ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে এ বারের পুজোয় পোস্টার থেকে অলিগলি—সব জায়গায় ব্রাত্য একসময়ের সর্বময় কর্তা সুজিত বসু। কারণ, পুজোর আগে ঘরে ফেরার শেষ আশাটুকুও নিভে গেছে; কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে তাঁর জামিনের আবেদন। ফলে শ্রীভূমির জমজমাট উৎসবের বাইরে সংশোধনাগারেই কাটবে তাঁর পুজো।
আরও পড়ুনঃ ‘কাঁচির দরকার কী, হাতই তো যথেষ্ট’ ফিতে ছিঁড়ে পুজো উদ্বোধন করে ফের খবরের শিরোনামে দিলীপ ঘোষ!
পুরনিয়োগ দুর্নীতি ও ইডি-র চাঞ্চল্যকর দাবি
গত ১১ মে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এরপর থেকেই তিনি জেলবন্দি। গত ১২ অগস্ট হাইকোর্টে ইডি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানায়:
-
পুরনিয়োগে মোট ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে।
-
চাকরির জন্য প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছিল।
-
শুধু তাই নয়, সুজিত বসুর নিজস্ব অ্যাকাউন্টেই ৮.৮ কোটি টাকা মিলেছে বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
তদন্তকারী সংস্থার তরফে আদালতে আরও জানানো হয়, শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী একা নন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার হদিশ মিলেছে, যার পক্ষে কোনো বৈধ হিসাব বা প্রামাণ্য তথ্য দাখিল করতে পারেননি তাঁরা। এর আগে ধৃত মিডলম্যান অয়ন শীলের বয়ান অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পৌরসভাতেই বিভিন্ন সময়ে ১৫২ জনের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু, যা তাঁর কালঘাম ছোটায়।
হাইকোর্টে ধাক্কা ও জামিন খারিজ
মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সুজিত বসুর জামিনের মামলাটি উঠলে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। পুজোর মুখে এই আইনি ধাক্কায় প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবার ও অনুগামীদের শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইও ব্যর্থ হলো।
আরও পড়ুনঃ এরা কি আইন মানে না? যন্তর মন্তরে বারণ, তবু হাজিরা! গেট টপকে বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক সিজেপির সৌরভ, আশুতোষেরা
বদলে যাওয়া শ্রীভূমি ও বর্তমান রাজনীতি
একসময়ে শ্রীভূমি মানেই ছিল সুজিত বসুর একক আধিপত্য ও মেগাস্কেল আয়োজন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রীভূমি কমিটি রাজনীতির বলয় থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণভাবে পাড়ার লোকেদের হাতে পুজো পরিচালনার বার্তা দিয়েছে। ব্যানার-ফ্লেক্সে শুধুই স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সেই বদলকে শিলমোহর দিয়েই দ্বিতীয়ার সন্ধ্যায় জমজমাট উদ্বোধনে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন লেক টাউনে আলোর উৎসব তুঙ্গে, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত হেভিওয়েট নেতার জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ—সব মিলিয়ে পুজোর প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব চিত্র দেখল তিলোত্তমা।


