বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কারা সরকার গঠন করবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে প্রায় ১০০টি আসনের ফলাফলের উপর। উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের এই আসনগুলিতে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুবই কম। তব মঙ্গলবার প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন পুরো সমীকরণটাই আরও এলোমেলো করে দিয়েছে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস আগের চেয়ে বেশি আসন নিয়ে চতুর্থবার সরকার গঠন করবে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির জন্য ১৭০ আসনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। দুই দলের এই দাবির মাঝে ভোট বাংলার বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ভাঙনের শুরু! গোসাবাতে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল খালি করে বিজেপিতে যোগের ঢল
রাজ্যের ২৩টি জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই প্রায় ১০০টি আসনে ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েকশো থেকে ১৫ হাজার ভোটের মধ্যে। অনেক আসনে ব্যবধান ছিল ১০০ ভোটেরও কম। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও মেদিনীপুরের বেশ কিছু আসন এই তালিকায় রয়েছে। বৃহত্তর কলকাতার ১২৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১০৭টিতে জিতলেও বিজেপি মাত্র ১৮টি পেয়েছিল।
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়ায় এই আসনগুলির সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মৃত, ডুপ্লিকেট ও বাস্তুচ্যুত বলে চিহ্নিত নামগুলি সরানো হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানালেও, সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই পরিবর্তন কোন দলের পক্ষে যাবে।
২০২১ সালে তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট (৪৮.৪৬%), বিজেপি পেয়েছিল ২ কোটি ২৯ লক্ষ (৩৭.৯৮%)। ২০২৪ লোকসভায় তৃণমূলের ভোট কমে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ হলেও বিজেপি ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোট পায়। দুই-তিন শতাংশ ভোটের সামান্য হেরফেরই এই ১০০ আসনে ফলাফল উল্টে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার বুথে পরিকাঠামোর অভাব! বেজায় চটেছে নির্বাচন কমিশন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তন এবারের নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। কলকাতা-হাওড়া-হুগলির মতো শহুরে ও আশেপাশের এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের কিছু আসন এখন ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোন দল ক্ষমতায় আসবে, তা নির্ভর করছে এই আসনগুলির ভোটারদের মেজাজের উপর। তদন্ত ও প্রচার যত এগোবে, ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে।



