বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে বাতিল করার আবেদন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রাক্তন ভোটকুশলী ও রাজনৈতিক কৌশলজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’র আবেদনকে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি খারিজ করেছে।
আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্য দিবালোকে খুন আম আদমি পার্টির নেতা লাকি ওবেরয়
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে জমা পড়া আবেদনের শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, “নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করতে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা যাবে না। জনগণ যদি ভোটে প্রত্যাখ্যান করে, তা আমাদের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করার সুযোগ নয়।”
বিহারের ২৪৩ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে JSP প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল ২৪২টিতে। কিন্তু কোনও কেন্দ্রে তারা সফল হয়নি। সব আসনেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুনানির সময় আদালত জন সুরাজ পার্টির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলে, “কত ভোট পেয়েছেন? নির্বাচনের পর বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করার চেষ্টা কেন?”
জন সুরাজ পার্টির অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’, যার মাধ্যমে নির্বাচনের ঠিক আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১ কোটি মহিলার নাম নথিভুক্ত করার মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে এবং আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর থাকার সময়ও এই বিতরণ চালু থাকে।
এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল JEEVIKA নেটওয়ার্ক, যা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মধ্যে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছিল। JSP দাবি করেছিল, নির্বাচনের ঠিক আগে সরকারি প্রকল্পের নামে এই টাকা বিতরণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত করেছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট জন সুরাজ পার্টির আবেদনের গুরুত্ব যাচাই করতে অস্বীকার করেছে এবং পরামর্শ দিয়েছে যে রাজ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো হাইকোর্টে দেখা উচিত। আদালত আরও জানিয়েছে যে, কিছু গুরুতর খয়রাতি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি এবং সংযুক্ত জনতা দল। ফের নীতীশ কুমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। যদিও বিরোধীরা গোড়া থেকেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’র আশা পূরণ হয়নি।









