মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলায় বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি নতুন গঠিত ভারতীয় জনতা পার্টির “পপুলার গভর্নমেন্ট” ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জেলার তুইবং এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েন প্রতিবাদকারীরা, যারা প্রকাশ্যেই এই নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।
আরও পড়ুনঃ বাম কী ভাঙছে! হঠাত্ হলটা কী? তীব্র মতবিরোধ বাম বৈঠকে; বেরিয়ে গেল ফরওয়ার্ড ব্লক
সূত্রের খবর, কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন বিধায়ক নতুন এই পপুলার গভর্নমেন্টকে সমর্থন দেওয়ায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সম্প্রদায়ের মতামত ও দাবিকে অগ্রাহ্য করে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি নিয়ে যে আন্দোলন চলছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই সমর্থনকে অনেকেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের পৃথক প্রশাসনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই পপুলার গভর্নমেন্টকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। বিক্ষোভের মাঝেই খবর আসে, কুকি বিধায়করা উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেন, এল. এম. খাউটে এবং নগুরসাংলুর সানাতে এই নতুন সরকারের গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাঁদের মতে, এটি সম্প্রদায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী পদক্ষেপ।
পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় যখন দু’জন বিক্ষোভকারী প্রতিবাদের চরম রূপ হিসেবে আত্মাহুতির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। সন্ধ্যা ছ’টার দিকে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া যায়। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সংঘর্ষে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ ভয়ংকর কিছু ইঙ্গিত? গভীর রাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দার্জিলিং, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর রয়ে গেছে। এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী। প্রশাসনের তরফে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবরকম চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও কুকি সম্প্রদায়ের একটি অংশ কুকি বিধায়কদের সতর্ক করেছিল, যদি তাঁরা বিজেপির এই পপুলার গভর্নমেন্টকে সমর্থন করেন, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় স্পষ্ট, মণিপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মাঝে এই নতুন উত্তেজনা রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









