দেবজিৎ মুখার্জী, কলকাতা:
চলতি বছরে রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের ঘটলো সমাপ্তি। রাজ্যে ক্ষমতায় এলো বিজেপি। এরপর থেকেই একের পর এক ইস্যু নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শাসক-বিরোধী তরজাও পৌঁছে গিয়েছে চরমে। বলা ভালো, ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওঁর বাপের নাম ঠিক থাকলে..’; অভিষেককে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
এই আবহে কার্যত দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বোমা ফাটালেন বিজেপির উত্তর কলকাতার প্রাক্তন সম্পাদক চন্দ্রশেখর সিং। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর এক পোষ্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে রাজনৈতিক মহলে। কী বলা হয়েছে সেই পোস্টে? একটি ছবি দিয়ে বিজেপি নেতার বক্তব্য, “অত্যাচার চালাচ্ছে একদল রাতারাতি তৈরি হওয়া নব বিজেপি।” শুধু তাই নয়, সেই পোস্টে নেতৃত্বের কাছে ‘পুরনো কর্মীদের সম্মান’এর অনুরোধও করা হয় তাঁর তরফ থেকে।
নিচের ছবিতে টাচ ( স্পর্শ) করলেই চন্দ্রশেখর সিং- এর লিঙ্ক পেয়ে জাবেনঃ
এই পোস্ট ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে ধীরে ধীরে বিজেপির অন্দরেও তৈরি হচ্ছে ফাটল। একাংশের কাছে বিষয়টি কিছুটা হলেও চিন্তার হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় সিংকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই পোস্ট করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “৪ তারিখ ফল ঘোষণার পর বহু তৃণমূল কর্মী আবির মেখে রাতারাতি বিজেপি হয়ে গেল। আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁদের জায়গা দলে হবে না। কোনও সুবিধাবাদীদের স্থান নেই বিজেপিতে।”
আরও পড়ুনঃ ‘ওঁর বাপের নাম ঠিক থাকলে..’; অভিষেককে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
এরপরই সঞ্জয় সিং বলেন, “তবে পরবর্তীতে আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখলাম রাজ্য ও জাতীয় স্তরে, যা মানুষের মনে দাগ কেটেছে। কিছু বিধায়ক ও সাংসদ দলের উচ্চ নেতৃত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দেখা গেল শমীক দা যা বলেছেন, তার উল্টোটা হল। কিন্তু পরে আমার মনে হল বৃহত্তর স্বার্থে ছোট ছোট জিনিস ত্যাগ করতে হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনে হয়েছে যে তাদের দলে নিলে বৃহত্তর স্বার্থ পূরণ করা সম্ভব হবে।” নিজের পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “যাঁরা সুবিধাবাদী বাদ দীর্ঘদিন ধরে অপকর্মে যুক্ত, তাঁরা যেন দলে জায়গা না পায়। নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই সেই পোস্ট আমি করেছিলাম।”



