সিইও দফতরে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন বিএলও-রা। সোমবার বিকেলে সেখানেই ঘটে গেল ধুন্ধুমার কাণ্ড। সিইও দেখা তো করেনইনি উল্টে তাঁর কর্মচারীরা গরু, ছাগলের মতো আচরণ করেছেন অভিযোগে সিইও দফতরের মেঝেতে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা, যাঁরা বর্তমানে কমিশনের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নেয় যে পুলিশ ডেকে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেন কমিশনরে আধিকারিকরা। তাতে ঘৃতাহুতি পড়ে। কমিশনের দরজার বাইরে অবস্থানে বসেন বিএলও-রা।
আরও পড়ুনঃ এবার ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র বানানোর অভিযোগ, গ্রেফতার দম্পতি
BLO অধিকার রক্ষা কমিটির তরফে সাফ জানানো হয়েছে, কমিশনের এই অপমানজনক আচরণ তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। অসম্মানজনক আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং যে দাবিতে ডেপুটেশন, সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সব মিলিয়ে ইলেকশন কমিশনের রাজ্য অফিসের (সিইও) সামনে তুমুল উত্তেজনা। বিএলওদের অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) পর্ব চলছে। আর সেই চাপেই যেন কার্যত জেরবার বুথ লেভেল অফিসাররা। একের পর এক অসুস্থতা, আত্মহত্যা—শাসক থেকে প্রশাসন, কোথাও যেন থামছে না বিতর্ক। এই অবস্থাতেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল করে রাজ্য নির্বাচন দফতরে, যান বিএলও-রা।
অভিযোগ, সেখানে যাওয়া মাত্রই তাঁদের নামের তালিকা নেওয়া হয়। এরপরই একজন মহিলা বিএলওর কাছে ইআরও-র ফোন আসে। তিনি টেলিফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ওই মহিলা বিএলও-র কথায়, “টেলিফোনে বলা হচ্ছে এক্ষুনি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে যেতে হবে, না হলে শোকজ করা হবে। ওখানে নাকি হইচই হচ্ছে”।
আরও পড়ুনঃ নদীখাতে সহস্রলিঙ্গ! কখনও ধ্বংসের হাত পড়েনি সহস্রলিঙ্গে
তিনি বলেন, এভাবে হুমকি দেওয়া হলে কোনওভাবেই কাজ করব না। নার্ভ ফেল করে যাচ্ছে, এই জন্যই তো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ, প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর হঠাৎই সিইও দফতরের এক কর্মী বলেন, আপনাদের সঙ্গে সিইও-র দেখা হবে না এরপরই শিক্ষকদের বের করে দিতে বলেন তিনি। যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, “এভাবে কথা বলছেন কেন? ইলেকশন কমিশনের অফিস তো বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে। বিজেপি নেতাদের সুরে কথা বলছেন দফতরের কর্তারা। আমরা কি গরু ছাগল নাকি? এভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কি করে?”
প্রতিবাদে সিইও দফতরের মেঝেতে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএলওরা। পরে পুলিশ দিয়ে সেখান থেকে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে দাবিতে কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন বিএলও-রা তা নিয়ে এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে কমিশনের কোনও কথা হয়নি। যার প্রতিবাদে কমিশনের অফিসের বাইরে বিক্ষোভে বসেছেন তাঁরা। এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।









