spot_img
Tuesday, 10 March, 2026
10 March
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজEnergy Crisis: মাত্র দু’দিনের মজুত গ্যাস; সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন

Energy Crisis: মাত্র দু’দিনের মজুত গ্যাস; সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন

ব্রিটেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন। সে দেশের আধিকারিকরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে মাত্র দু’দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পর এবং ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ করে দেওয়ায় এই সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের গ্যাস সংরক্ষণাগারে বর্তমানে প্রায় ৬,৭০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ব্যবহারের হারে এই গ্যাস মাত্র দেড় দিন দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ব্রিটেনের কাছে প্রায় একই পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সংরক্ষিত রয়েছে। তবে দু’ধরনের মজুত গ্যাস একত্রিত করলেও, মোট সরবরাহ এখনও অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুনঃ বাড়ছে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা; পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক কৌশল

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে তারা বড় পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত করেছে। অনেক ইউরোপীয় দেশের কাছেই কয়েক সপ্তাহ চলার মতো গ্যাস রয়েছে। ব্রিটেনের সীমিত মজুত তাকে জ্বালানি বাজারে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। ফলে অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির জন্য দেশটিকে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা ব্রিটেনে গ্যাস সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত দাম দাবি করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বর্তমানে ব্রিটেন ইউরোপে সর্বোচ্চ পাইকারি দরে গ্যাস মূল্য চোকাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহণে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ইরানের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার কিছু এলাকায় উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে এই সপ্তাহে কাতার ঘোষণা করেছিল, ইরানের হামলার কারণে তারা সাময়িকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান-এ উৎপাদন বন্ধ করেছে। কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরী ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বাজারগুলিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে পারে তেল ও গ্যাসের দাম। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছবে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম ১৫০ ডলার পর্যন্তও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে সংঘাতপ্রবণ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল থেকে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ করছে ব্রিটিশ সরকার। বিদেশ দফতর একটি বিশেষ অনলাইন বুকিং পোর্টাল চালু করেছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া চার্টার্ড ফ্লাইটে আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চার্টার ফ্লাইটের আসন বুকিংয়ে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশ দফতর আরও জানিয়েছে, যাঁরা সরকারি ভ্রমণ রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান রেজিস্ট্রি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। গত সপ্তাহে জরুরি উদ্ধার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকার পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। ওমানের মাসকাট থেকে দু’টি ফ্লাইট ইতিমধ্যেই আটকে পড়া নাগরিকদের নিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছেছে। দুবাই থেকে যাত্রিবাহী আর একটি ফ্লাইট এই সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটেনে পৌঁছনোর কথা। তবে উদ্ধার অভিযান চললেও, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমির শাহিতে ইরানের হামলা অব্যাহত। শনিবার দুবাইয়ে একটি গাড়ির ওপর গুলি করে নামানো হয় একটি ইরানি ড্রোন। তার ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন একজন।

আরও পড়ুনঃ রান্নার গ্যাস ১৫০০ টাকা! মধ্যবিত্তের হেঁশেল ওলটপালট

অন্যদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত, ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চলছে, তাতে সরাসরি অংশ না নেওয়া নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার দুই দেশের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে ফোনে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য যে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতা কথা বললেন। তবে দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ব্রিটেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। স্টারমার বলেছেন, “ইরান যদি সরাসরি হামলা করে এবং প্রতিরক্ষামূলক সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখনই আমেরিকাকে সাহায্য করবে ব্রিটেন। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের  সমালোচনা করেন এবং জানান যে তিনি মিত্রদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছেন না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে ট্রাম্প দাবি করেন, স্টারমার যুদ্ধে অংশ না নিয়েও কূটনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ব্রিটেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে না এবং সে তার বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত অন্য কারও হাতে ছেড়ে দেয় না।” তবে ব্রিটেন আমেরিকাকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্টারমার ও ট্রাম্প তাঁদের আলোচনায় সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুপার ফের মনে করিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থে নয়। তারা অগ্রাধিকার দেবে সরকারের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপকেই।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন