নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন যে সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেল এবার প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল মোতায়েন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে মোট ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক বাহিনী নিয়োগের উদ্দেশ্য একটাই ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। রাজ্যের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুনঃ এটাই কি নতুন তৃণমূল! বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু
আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যের মোট ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই এই প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ফলে উত্তরবঙ্গ কার্যত প্রথম পর্বেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে। প্রথম দফায় যেসব জেলায় ভোটগ্রহণ হবে, তার মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এই জেলাগুলিতে বরাবরই নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু। তাই এই অঞ্চলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।
এছাড়াও উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলাতেও প্রথম দফায় ভোট হবে। এই জেলাগুলির বেশ কিছু এলাকা অতীতে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ও টহলদারির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাও রয়েছে প্রথম দফার তালিকায়। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর এই জেলাগুলিতেও ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। এই সব জেলায়ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোম্পানি বরাদ্দ করা হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী থাকবে, তার বিস্তারিত হিসেবও তৈরি করা হয়েছে। সংবেদনশীল বুথ, অতিসংবেদনশীল এলাকা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা বিচার করেই এই বণ্টন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



