পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রথম দফায় ২৮৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের বাকি দশ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)। এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাজ্যে কংগ্রেসের প্রার্থিতালিকা সম্পূর্ণ হল।
আরও পড়ুনঃ দ্বন্দ্বে জেরবার বামফ্রন্ট! ISF-কে নিয়ে ‘বিদ্রোহ ঘোষণা’ FB ও RSP-র
শেষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁকে হুগলির শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট–কংগ্রেস জোটের হয়ে এই কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন শুভঙ্কর। সে বার তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ্ত রায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। প্রায় এক দশক পরে আবারও একই কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করে কংগ্রেস স্পষ্টতই পুরনো সংগঠনিক ভিত্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এআইসিসি-র তালিকায় আলিপুরদুয়ারে মৃন্ময় সরকার, ইসলামপুরে গুড্ডি রিয়াজ, ফরাক্কায় মেহতাব শেখ, সাগরদিঘিতে মনোজ চক্রবর্তী, বেলডাঙায় শাহারুদ্দিন শেখ, বাদুড়িয়ায় কাজী আব্দুল রহিম, অশোকনগরে অংশুমান রায়, শ্রীরামপুরে শুভঙ্কর সরকার এবং পটাশপুরে প্রণব কুমার মহাপাত্রের নাম রয়েছে। বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে বলেই দলীয় সূত্রের দাবি।
গাজোল কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে। আগে এই আসনে সঞ্জয় সরকারকে প্রার্থী করা হলেও, পরে তাঁর পরিবর্তে প্রেম চৌধুরীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় সমীকরণ ও সাংগঠনিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই বদল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে এ দিন কলকাতার বিধান ভবনে উত্তেজনার চিত্রও সামনে আসে। ২৮৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দু’জন কর্মী আহত হন এবং তাঁদের মাথা ফেটে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ভেস্তে গেল বৈঠক; সরে যেতে চান প্রাক্তন বিচারপতিরা!
বাদুড়িয়া কেন্দ্র ঘিরেও রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। ওই কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিম (দিলু) মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। এরপর তাঁকেই বাদুড়িয়া থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়ার পর ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ফের ওই কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। এ বার তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ায় আবার কংগ্রেসে ফিরে এসে প্রার্থী হয়েছেন।
এদিকে বহরমপুর কেন্দ্রে অধীর চৌধুরী লড়াইয়ে নামায় প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীকে সাগরদিঘি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শেষ তালিকায় কংগ্রেস সাংগঠনিক ভারসাম্য, দলবদল রাজনীতি এবং পুরনো শক্ত ঘাঁটিগুলিকে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।



