তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিসে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানির ঠিক আগেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে একটি নতুন আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সেখানে রাজ্য পুলিশের বর্তমান ডিজি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়েছে ইডি।
আরও পড়ুনঃ জীবন উৎসর্গকারী সৈন্যদের বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতি সম্মান, আজ ভারতীয় সেনা দিবস
ইডির অভিযোগে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন এবং গুরুতর অসদাচরণ দেখিয়েছেন। ইডির দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে সরাসরি বাধা দিয়ে তদন্তের স্বচ্ছতা নষ্ট করা হয়েছে। রাজীব কুমার ছাড়াও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা অন্যান্য সিনিয়র অফিসারদের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সাসপেনশনের আর্জি জানানো হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।
ইডির আবেদনে রাজীব কুমারের পুরনো ভূমিকার কথাও টেনে আনা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীনও তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে বসেছিলেন, যা একজন আইপিএস অফিসারের শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এই কারণে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ইডির আবেদন, কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘নো এন্ট্রি বোর্ড’! বাংলাদেশি-পাকিস্তানীদের ঢোকা বন্ধ করা হল আমেরিকায়
আইপ্যাক-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই দুটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
প্রথমটি: সরাসরি ইডির তরফে দায়ের করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি: ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা ব্যক্তিগতভাবে দায়ের করেছেন।
এই মামলাগুলোতে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা এবং ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কেও পক্ষ করা হয়েছে।
এই ইস্যুতে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, “তৃণমূল শাসনে রাজনীতি এবং প্রশাসনের সীমারেখা মুছে গেছে। আইপিএস অফিসাররা দলীয় দাসের মতো আচরণ করলে তার খেসারত তো দিতেই হবে।”
আজ সুপ্রিম কোর্টে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি। সর্বোচ্চ আদালত রাজীব কুমার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।









