Wednesday, 21 October, 2026
21 October
HomeদেশECI: নজিরবিহীন, তোলপাড় আসমুদ্রহিমাচল! জ্ঞানেশকে এড়িয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি ২ নির্বাচন কমিশনারের!

ECI: নজিরবিহীন, তোলপাড় আসমুদ্রহিমাচল! জ্ঞানেশকে এড়িয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি ২ নির্বাচন কমিশনারের!

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চিঠি দু’টি ৩০ জুলাই সচিবালয়ে নথিভুক্ত হয়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিবেদন:

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনারকে এড়িয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যা নিয়ে কমিশনের অন্দরে তীব্র আপত্তি ওঠে। এই ঘটনার পরই ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ (আরটিআই) বা তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব তথ্য।

বুধবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৯ জুলাই দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার— সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে সরাসরি ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  ফের দুর্ঘটনা শহরে, দশমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ ঘটনা; নিউ টাউনের ঝুলন্ত রেস্তোরাঁয় আগুনের ফুলকি


কীভাবে সামনে এলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য?

দুই নির্বাচন কমিশনারের এই নজিরবিহীন চিঠির বিষয়বস্তু এবং সত্যতা জানতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র তরফে একটি আরটিআই আবেদন করা হয়। গত ১৯ অক্টোবর সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি জবাব মিলেছে। উত্তরপত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর লেখা গত ২৯ জুলাই তারিখের দু’টি চিঠি ‘সেবা তীর্থে’ (যে নতুন কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় এবং ক্যাবিনেট সচিবালয় অবস্থিত) পৌঁছায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চিঠি দু’টি ৩০ জুলাই সচিবালয়ে নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের মধ্যে ক্যাবিনেট সচিব সেই চিঠিগুলি ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর কর্মকর্তাদের কাছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। যদিও আরটিআই-এর প্রথম জবাবে চিঠির অভ্যন্তরীণ মূল বিষয়বস্তু সরাসরি প্রকাশ করা হয়নি। ক্যাবিনেট সচিবালয়ের তথ্যে জানানো হয়েছে, মোট ১৪ পৃষ্ঠার একটি নথি রয়েছে— যার মধ্যে কমিশনারদের ১০ পৃষ্ঠার মূল চিঠি, ২ পৃষ্ঠার উত্তরপত্র এবং ২ পৃষ্ঠার ফাইল নোট অন্তর্ভুক্ত। নির্ধারিত ২৮ টাকা ফি জমা দিলে এই নথিপত্র আবেদনকারীকে হস্তান্তরিত করা হবে।

চিঠি লেখার নেপথ্যে কী কারণ ছিল?

ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, গত ২৮ জুলাই কমিশনের অন্দরে জারি করা ‘কাজের বণ্টন’ সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকাই এই চিঠি লেখার প্রধান অনুঘটক ছিল। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করেই দুই কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দেন এবং এই পদক্ষেপকে কমিশনের প্রচলিত নিয়মের ঘোর লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে যদিও সেই争议পূর্ণ কাজের বণ্টন সংক্রান্ত নির্দেশিকাটি বাতিল করা হয়।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই বিতর্কিত প্রশাসনিক রদবদলের ফলে নির্বাচন কমিশনের আইটি (IT) পরিকাঠামো ও ভোটার তালিকার প্রযুক্তিগত কাঠামোর ওপর থাকা তদারকির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর অপসারিত হয়েছিল। দুই কমিশনার স্পষ্ট জানান, তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বা অগোচরেই এই পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছিল, যা কমিশনের ‘প্রচলিত কাঠামোগত রীতির থেকে আমূল বিচ্যুতি’।

বিতর্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টীকরণ

এদিকে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার আগেই, গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন পুরো ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছিল। কমিশনের দাবি ছিল, “মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিটি কমিশনের কোনো নীতিগত বিষয় বা আইটি বিভাগের পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত ছিল না। এটি মূলত নির্বাচন কমিশনে কর্মরত একজন নির্দিষ্ট আধিকারিকের কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা কাজের আদেশের কার্যকারিতা দুই কমিশনারের নির্দেশনার পরই স্থগিত রাখা হয়। এছাড়া, আইটি বিভাগের ওপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের (DEC) তদারকির দায়িত্বও কখনও তুলে নেওয়া হয়নি।”

আরও পড়ুনঃ  মা গঙ্গা কোথায় গেলেন! শুকিয়ে গিয়েছে হরিদ্বারে হর কি পৌরি ঘাটে গঙ্গার জল

রহস্যের উন্মোচন কোন পথে?

কমিশন সাফাই দিলেও, আরটিআই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ করে দিচ্ছে যে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সত্যই ক্যাবিনেট সচিবালয়ে সিইসি-কে ডিঙিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিগুলি কবে পৌঁছায় এবং ক্যাবিনেট সচিব কী পদক্ষেপ নেন— তা এখন নথিবদ্ধ। আপাতত চিঠির সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিষয়বস্তু রহস্যের আড়ালেই রয়েছে। আবেদনকারী সংবাদমাধ্যম নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পর ১৪ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ নথি হাতে পেলে, দুই কমিশনার ঠিক কী অভিযোগ জানিয়েছিলেন এবং ক্যাবিনেট সচিবের জবাব কী ছিল— তা সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন