বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
দুর্গাপুজো মানেই কেবল দেবী বন্দনা নয়, এটি বাঙালির ভুরিভোজ ও রসনা-বিলাসেরও মহোৎসব। বিশেষ করে শতবর্ষ প্রাচীন বনেদি বাড়িগুলির পুজোর ঐতিহ্য ও ভোগের উপকরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রন্ধনশিল্পের ইতিহাস। প্রসাদী থালায় মণ্ডা-মিঠাইয়ের সেই সাবেকি স্বাদ ধরে রাখতে ৩টি ঐতিহাসিক মিষ্টির সহজ প্রণালী নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ক্ষীরমোহন

বনেদি বাড়ির পুজোর অন্নভোগ ও নৈবেদ্যের থালায় অন্যান্য মিষ্টান্নের সাথে ক্ষীরমোহনের উপস্থিতি অত্যন্ত আবশ্যক।
-
উপকরণ: দুধ ৩ লিটার, ছানার জল ৩ কাপ, ছোট এলাচ ৪-৫টি, চিনি ১ কাপ, ময়দা ১০০ গ্রাম, সুজি ৫০ গ্রাম।
-
প্রণালী:
১. প্রথমে চিনি ও জল ফুটিয়ে হালকা রস/শিরা তৈরি করে রাখুন।
২. দুধ ফুটিয়ে ছানার জল দিয়ে ছানা কাটিয়ে ছাঁকনিতে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিন।
৩. একটি বড় থালায় ছানা, এলাচ গুঁড়ো, ময়দা, সামান্য চিনি ও সুজি একসাথে খুব ভালো করে ঠেসে একটি মসৃণ মণ্ড তৈরি করুন।
৪. মণ্ড থেকে ছোট ছোট গোল্লা বানিয়ে চিনির শিরায় ফুটিয়ে নিয়ে রস চিপে আলাদা করে তুলে রাখুন।
৫. অন্য একটি পাত্রে দুধ ফুটিয়ে ঘন করে ক্ষীর বানিয়ে নিন। সেই গরম ঘন ক্ষীরে বানিয়ে রাখা ছানার গোল্লাগুলি ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি ঐতিহ্যবাহী ক্ষীরমোহন।
২. আটার নাড়ু

যুগ যুগ ধরে বনেদি বাড়ির মহিলারা দেবীর বিশেষ নৈবেদ্য হিসেবে ঐতিহ্যবাহী এই আটার নাড়ু তৈরি করে আসছেন।
-
উপকরণ: নারকেল কোরা ৪ কাপ, আটা ১/২ কাপ, আখের গুড় ২ কাপ, ভেলি গুড় ১/২ কাপ, থেঁতো করা বড় এলাচ ৫-৬টি এবং ঘি ৫-৬ টেবিল চামচ।
-
প্রণালী:
১. একটি ভারী পাত্রে নারকেল কোরা, ঘি ও আখের গুড় দিয়ে মৃদু আঁচে নাড়তে থাকুন।
২. মিশ্রণে পাক এলে ভেলি গুড়, থেঁতো করা বড় এলাচ ও আটা মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।
৩. মিশ্রণটি থকথকে ও আঠালো হয়ে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন।
৪. হালকা ইষদুষ্ণ অবস্থায় হাতে সামান্য ঘি মেখে গোল গোল করে নাড়ু গড়ে নিলেই প্রস্তুত আটার নাড়ু।
আরও পড়ুনঃ বড় ধাক্কা; ফের বাড়ল গ্যাসের দাম
৩. নারকেলের তক্তি (স্বদেশি ঐতিহ্যের মিষ্টি)

পরাধীন ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের সময় কারিগরেরা ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘চরকা’ খোদাই করা বিশেষ কাঠের ছাঁচে এই মিষ্টি বানাতেন, যা আজও অনেক বাড়ির পুজোয় অন্যতম প্রসাদী চমক।
| উপকরণের তালিকা | পরিমাপ |
| নারকেল কোরা | ২ কাপ |
| ক্ষীর / মাওয়া | ১/২ কাপ |
| গুড় | ১ কাপ |
| সাদা তিল | ১/২ কাপ |
| নকশাদার কাঠের ছাঁচ | ১টি |
-
প্রণালী:
১. শুকনো কড়াইতে সাদা তিল ভেজে তুলে নিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন।
২. কড়াইতে নারকেল কোরা, গুড় ও ক্ষীর একসাথে দিয়ে ভালো করে নেড়ে চটচটে পাক তৈরি করুন।
৩. নামানোর ঠিক আগে ভেজে রাখা তিল গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিন।
৪. মিশ্রণটি নামিয়ে মিহি করে বেটে নিন। এরপর ঐতিহ্যবাহী কাঠের ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে বেটে রাখা মণ্ড চেপে দিলেই তৈরি স্বদেশি আমেজ মাখা তক্তি।


