বিশেষ রাজ্য ও বাজার প্রতিবেদন:
আজ ধনধান্যে ভরপুর ধনদাত্রী দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা—কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। সকাল থেকেই বাংলার ঘরে ঘরে পুজো ও প্রসাদ আয়োজনের তোড়জোড় চরম ব্যস্ততায় চলছে। তবে পুজোর দিন সকালে বাজারে গিয়ে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মধ্যবিত্তের। ফল, সবজি থেকে শুরু করে চালকুমড়ো কিংবা ফুল—সবকিছুর দামই একধাক্কায় আকাশছোঁয়া। লক্ষ্মীপুজোর বিস্তৃত ফর্দ মেলানো ও নৈবেদ্য জোগাড় করতেই পকেটে টান পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
আরও পড়ুনঃ জানেন না ৯৯% ভক্তই! কীভাবে চালু হল ‘কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো’?
ফলের বাজারে আগুনের ছোঁয়া
রবিবার সকালে মহানগরের ব্যস্ততম মানিকতলা বাজারে গিয়ে দেখা গেল কেনাকাটার চেনা ভিড়, তবে ফলের দরে আগুন। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ফলের বাজারদর:
-
আপেল: ১৫০ থেকে ২০০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
নাশপাতি: ১৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
আতা: ১৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
শসা: ৮০ থেকে ১০০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
পানিফল: ৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
মুসাম্বি লেবু: ১৫ টাকা (প্রতি পিস)
-
নারকেল: ৪০ থেকে ৫০ টাকা (প্রতি পিস)
লক্ষ্মীপুজোয় দেবীর প্রসাদে নারকেলের ভূমিকা অপরিহার্য। সেই নারকেলই আকারভেদে বিকোচ্ছে ৫০ টাকা পর্যন্ত, যা নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা গেছে গৃহস্থদের মধ্যে।
সবজির বাজারদরেও কড়া ধাক্কা
নৈবেদ্যের পাশাপাশি খিচুড়ি প্রসাদ ও তরকারির জন্য সবজি কিনতে গিয়েও হাত পুড়ছে ক্রেতাদের। বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম ছোঁয়াচ্ছে কেজিতে ১০০ টাকার ঘর:
-
কাঁচা লঙ্কা: ১২০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
দেশি পটল: ৮০ টাকা (সাধারণ পটল ৪০ টাকা/কেজি)
-
ঝিঙে: ৮০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
উচ্ছে: ৭০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
টমেটো, বাঁধাকপি ও ঢ্যাঁড়শ: ৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
-
ফুলকপি: ৪০ থেকে ৫০ টাকা (প্রতি পিস)
আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত প্যারিস; ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের!
অসহায় মধ্যবিত্তের ক্ষোভ
বাজারে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপের সুর নিয়ে জানান, “শসা, বেগুনের দাম একধাক্কায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগের তুলনায় ফুলকপির দামও প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি বছরই পুজোর মুখে এই অসাধু দাম বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকে। কিন্তু বাঙালি তো পুজো না করে থাকতে পারবে না, তাই বাধ্য হয়েই পকেটের রেস্ত উজাড় করে কেনাকাটা করতে হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দের মাঝেই বাজারের আকাশছোঁয়া দর মধ্যবিত্তের বাজেটে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে।


