শবেবরাতে যেন কোনও বেআইনি অবৈধ এবং বিপজ্জনক আতসবাজি ব্যবহার না হয় – সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে রাত ১০ টা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত কোনওরকম আতসবাজি ফাটানো যাবে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানির আগে পুলিশকে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। যে মামলার বিষয়টি আগামী এপ্রিলের মাসিক শুনানির তালিকায় নথিভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
আর হাইকোর্ট সেইসব নির্দেশ দিয়েছে কলকাতার এক মহিলার জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে। আজ সন্ধ্যা থেকে বুধবার পর্যন্ত শবেবরাত পালন করা হবে। তার আগে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে ওই মহিলা অভিযোগ করেন, বেআইনিভাবে বাজি ফাটানো হয়। লঙ্ঘিত হয় সংবিধানের ২১ ধারার আওতায় স্বীকৃতি বাঁচার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার। গত বছর পুলিশ পিকেটিং থাকা সত্ত্বেও এবং একাধিকবার অভিযোগ দায়েরের পরেও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সেই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে ওই মহিলা আর্জি জানান যে কোনও বেআইনি বাজি যেন ফাটানো না হয়। আর আতসবাজি পোড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার আর্জিও জানান ওই মহিলা। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কালীপুজো, দীপাবলি, নববর্ষের সময় বাজি পোড়ানো নিয়ে বাজি ফাটানো নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শবেবরাতের ক্ষেত্রে সেরকমও নির্দিষ্ট আইনিবিধি ছিল না। সেটার ফায়দা নিয়ে বেপরোয়াভাবে দেদার বাাজি ফাটানো হয় বলে অভিযোগ তোলেন মহিলা।
আরও পড়ুনঃ ‘ফুল অন অ্যাকশন’; সাতসকালেই অ্যাকশন মোডে ইডি
শুধু তাই নয়, মহিলা অভিযোগ করেছেন যে গত বছর বাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করায় হামলার মুখে পড়েছিলেন। কয়েকজন সমাজবিরোধী তাঁর বাড়ির মধ্যে বাজি ছুড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মহিলা। সেই প্রেক্ষিতে উৎসবের সময় মামলাকারী মহিলা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদানের জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
সেইসঙ্গে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যে শবেবরাতে যেন কোনও বেআইনি বাজি ফাটানো না হয়। আর রাত ১০ টা থেকে সকাল ছ’টা (আট ঘণ্টা) পর্যন্ত যাতে কোনওভাবেই বাজি ফাটানো না হয়, তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট









