খুচরো বাজারে ডিমের দাম বেড়ে আট টাকায় পৌঁছতেই মিড-ডে মিল নিয়ে বাড়ছে চিন্তা । সরকারি বরাদ্দ যেখানে মাত্র সাড়ে ছ’টাকা, সেখানে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ডিম দিয়ে খাবার জোগানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন শিক্ষক থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।
আরও পড়ুনঃ আজও ঐতিহ্যের সাথে পালিত হচ্ছে বেহালা বরিশার চণ্ডী মেলা
বাঁকুড়া মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র ঘোষের কথায়, “প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন ছাত্র মিড-ডে মিল খায়। বরাদ্দ ১৫০০ টাকা। গ্যাস–মশলা–আনাজেই তার চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। ডিম দিতে গেলে তো আরও অসুবিধে। সরকার বরাদ্দ বাড়ালে স্বস্তি মিলত।”
ডিমের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। রঘুনাথপুর-২ ব্লকের কর্মীরা মঙ্গলবার পথে নেমে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য প্রতিদিন ডিম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাজারদরের সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের ফারাক মেটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ছ’দিন খাবার দেওয়া হয়—তিন দিন খিচুড়ি-ডিম, তিন দিন ভাত–আলু–সবজি–ডিমসিদ্ধ। গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের প্রতিদিন গোটা ডিম, শিশুদের তিন দিন অর্ধেক অথবা গোটা ডিম দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু কর্মীদের অভিযোগ, “একটি ডিমের জন্য সাড়ে ছ’টাকা বরাদ্দ। বাজারে দাম এখন প্রায় আট টাকা। সবজির জন্য ১১ পয়সা পাওয়া যায়—এতে কীসের সবজি হবে?”
আরও পড়ুনঃ বাজার মূল্য ৭০০ কোটি! শিল্পের সেই জমিতে মহাকাল মন্দির কেন? সুর চড়াচ্ছে বাম ও রাম
জ্বালানির খরচ থেকেও নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। অভিযোগ, তিন মাসের বিল জমা দিলে এক মাসের টাকা মেলে। কোথাও কোনও দিনে ডিম না পেলে স্থানীয়দের রোষের মুখেও পড়তে হয় কর্মীদের।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শম্পা বন্দ্যোপাধ্যায়, মিঠু মুখোপাধ্যায় ও রিনা সিনহাদের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “বরাদ্দের চেয়ে বেশি টাকায় ডিম কিনছি, রান্নার সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ নেই বছর কয়েক। নিজের পকেট থেকে কতদিন দেব?”
শুধু বাঁকুড়া নয়, রাজ্যজুড়েই একই পরিস্থিতি। বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন শিক্ষক থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। যদিও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।









