তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের বৈঠক নিয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কমিশনের অভিযোগ, গলা চড়িয়ে কথা বলছিলেন ডেরেক, জ্ঞানেশ কুমারকে কথা বলতে দিচ্ছিলেন না তিনি। জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূল সাংসদদের বলেন, ‘বেরিয়ে যান’! তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের প্রতিনিধিদের ‘গেট লস্ট’ (এখান থেকে বিদায় হন) বলে অপমান করেছেন।
ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, বৈঠকটি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়েছিল– সকাল ১০:০২ থেকে ১০:০৭ পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন তৃণমূল প্রতিনিধিদল কমিশনের কাছে কর্মকর্তাদের বদলি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। ডেরেক এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক” বলে বর্ণনা করেছেন।
তৃণমূল প্রতিনিধিদল অভিযোগ করতে গিয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ৯টি চিঠির কোনো জবাব দেয়নি নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নন্দীগ্রামে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাঁত রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, কমিশনের উচিত ওই দিনের বৈঠকের অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ড প্রকাশ করা, যাতে সত্য সকলের সামনে আসে। তিনি আরও কটাক্ষ করেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্ভবত ভারতের একমাত্র ব্যক্তি, যাঁর বিরুদ্ধে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই অপসারণের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভোট অঙ্কে বিরাট পরিবর্তন! বঙ্গের সরকার নির্ধারিত হবে ১০০ আসনেই
অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের সূত্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, ডেরেক ও’ব্রায়েনই বৈঠকে চিৎকার করেছিলেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কথা বলতে বাধা দিচ্ছিলেন। কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূল প্রতিনিধিরাই বলেছিলেন যে, তাঁরা কমিশনারের কথা শুনতে রাজি নন এবং তাঁরাই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছে। মূল লক্ষ্য হল, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিকে আরও জোরদার করা।



