spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাPaush Lakshmi Puja: বাংলার লৌকিক পার্বণ তুষ-তুষলী, পৌষলক্ষ্মীর ব্রতকথা

Paush Lakshmi Puja: বাংলার লৌকিক পার্বণ তুষ-তুষলী, পৌষলক্ষ্মীর ব্রতকথা

এই মাসেই ধান ওঠে গোলায়। চাষ-আবাদের শ্রীবৃদ্ধির জন্যই কিন্তু এই বিশেষ পুজোর আয়োজন

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আজ বড়দিন। বড়দিনের পাশাপাশি আজ যদি একটু বাংলা ক্যালেন্ডার দেখি , দেখতে পাবো ছোট করে যীশুর ছবির তলায় লেখা আছে লক্ষ্মীপূজা। আবার দিন মেলালে দেখবো আজ বৃহস্পতিবার। শুক্লপক্ষের বৃহস্পতিবার। কিন্তু তাতে কি?

আজকে বাংলার খুব সুন্দর একটা ঘরোয়া ব্রত পালনের দিন। আজ পৌষলক্ষ্মীর পুজোর দিন।

আর পুজো থাকবে, ব্রতকথা থাকবেনা? ব্রতকথার মাহাত্ম্য অধিক। চলুন শান্ত হয়ে বসে ব্রতকথা শুনি!

আরও পড়ুনঃ ভারত-বাংলাদেশ আদর্শিক বন্ধুত্বের পাশাপাশি কি কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও ভাবা উচিৎ ভারতের?

বহুদিন আগের কথা, এক গ্রামে এক বামনি বাস করতো, যিনি ছিলেন বিধবা। তার ছিল পাঁচ ছেলে , একটি মেয়ে। মেয়েটিই ছিল বড়।

অভাবের সংসারে এতজনের খাবার জোগাড় করা কষ্টের। বড় মেয়ে মাকে বলে মামার বাড়িতে যেতে, যাতে মামা কিছু ব্যবস্থা করে তাদের জন্য।

কিন্তু যুগ যুগ ধরেই এরকম কিছু হলে অনেক মানুষ নিজেদের মানুষকে বোঝাই মনে করে। মামার বৌ অর্থাৎ মামীর চক্ষুশূল হল তারা। সারাদিনের খাটনির শেষে সামান্য খুদকুঁড়ো পেতে লাগল তারা।

একদিন মামার বাগানে ভালো লাউ ফলেছে দেখে বামনি ভাজের কাছ থেকে লাউ চাইলে একদম না করে দেয়, খালি হাতে ফিরতে হয়।

আরেকদিন ছিল বৃহস্পতিবার, কাজ শেষে বামনি যখন খুদকুঁড়ো নিয়ে ফিরছে, তখন মামী তার মাথায় উকুন বেছে মারতে বলে (মতান্তরে পাকা চুল তুলতে বলে) । কিন্তু বামনি লক্ষ্মীবারে এ কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করায় সে রেগে বামনির খুদকুঁড়ো সব ফেলে দেয়।

খালি হাতে ফিরতে থাকা বামনি লক্ষ্মীর নাম জপতে থাকে, আর রাস্তায় সে পায় এক মৃত সাপ। সে ভাবলো আজ এটাই  ভাতের সাথে রান্না করা হবে।

সেইমতো বামনি রান্না শুরু করলে আস্তে আস্তে সে দেখে হাঁড়ি থেকে উঠতে থাকে সোনার ফেনা, তৈরি হয়ে গেল প্রচুর সোনা! আসলে এসব ছিল মায়ের কৃপা।

আস্তে আস্তে সেই জমানো সোনা বিক্রি করে তাদের সুদিন এলো। পাঁচ ছেলের বামনি বিয়ে দিল, বাড়ি আনলো পাঁচ বউ যারা ছিল ধর্মপ্রাণা।

এখন সুদিন এসেছে দেখে মামা-মামী তাদের বৌ সমেত নেমন্তন্ন করলো একদিন। পাঁচ বৌ এর সামনে পঞ্জব্যঞ্জন সাজিয়ে দিতেই বৌয়েরা গায়ের গয়না খুলে একটা ছড়া বলতে থাকে। ছড়াটি ছিল-

“সোনা-দানার বড়ো মান্য,

সোনার কল্যাণে নেমতন্ন।

ঢোলা ঢোলা লাউয়ের পাত,

খাও সোনা পিঠে ভাত।”

আরও পড়ুনঃ বিশ্বশান্তির বার্তা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতার; নিজের লেখা গানে বড়দিনের শুভেচ্ছা

এই ছড়া শুনে মামী বামনিকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আজকে সুদিন এসেছে বলে তাদের নেমন্তন্ন হয়েছে। আজ তাদের সোনা গয়না হয়েছে বলেই কদর, এ তো শুধু তাহলে সোনা-গয়নার নেমন্তন্ন। আন্তরিকতার নয়।

বৌয়েরা খাবার ছেড়ে উঠে পড়ে, বামনির সাথে ফিরে আসে। বামনির স্বর্গলাভ হয় কিছুদিন পর। আর ছড়িয়ে পড়ে মায়ের ব্রতকথা।

ব্রতকথারা ছড়িয়ে পড়বে এক মুখ থেকে আরেক মুখে। আমাদের মা-ঠাকুমারা আজ আছেন, তাই অনেক জায়গায় এই ব্রতগুলি পালন হয়। আজকের প্রজন্মের অনেকেই উদাসীন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই ব্রতকথারা বেঁচে থাকবে, মানুষের মাধ্যমেই। সবাই সমান হয়না। আমি বিশ্বাস করি আজ কোথাও না কোথাও ঠিক সুন্দর ভাবে এই ব্রত পালন করছে, ব্রতকথা পাঠ করছে। সুন্দর এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর সুন্দর পরিবেশেই তো মা বিরাজ করেন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন