গত বছর আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে এই দুর্ঘটনা একটি দুর্ঘটনা নয়। এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ‘ডেলিবারেট পাইলট অ্যাকশন’ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা ঘটান। গত বছর ১২ জুন এয়ার ইডিয়ার ৭৮৭ ড্রিমলাইনার টেক অফার কিছু পরেই একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের উপর মুখ থুবড়ে পরে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন জলে ওঠে বিমানটিতে।
আরও পড়ুনঃ চলছে অভিযান! কিশ্তওয়ারে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ
প্রায় সব যাত্রী মারা গিয়েছিলেন এই দুর্ঘটনায়। তাৎক্ষণিক তদন্তের পরে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখানো হয় দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফুয়েল সাপ্লাই কেটে যাওয়া। কিন্তু হঠাৎ করে যাত্রীবাহী এই বিমানের ফুয়েল সাপ্লাই বন্ধ হল কেন তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটি তদন্ত করছেন।
জুলাই মাসের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, টেকঅফের পর ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ পজিশনে চলে যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা যায়, এক পাইলট অন্যকে জিজ্ঞাসা করছেন, “কেন ফুয়েল কেটে দিলে?” অন্যজন বলছেন, “আমি করিনি।” এই বিভ্রান্তি এবং ১০ সেকেন্ডের একটা অদ্ভুত গ্যাপ তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্লুমবার্গের সূত্রে জানা যাচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কোনও প্রমাণ মেলেনি। বোয়িংয়ের ডিজাইন বা যন্ত্রাংশে কোনও ফল্ট পাওয়া যায়নি। সাবোটেজ বা বাইরের হস্তক্ষেপেরও কোনও চিহ্ন নেই। ফলে তদন্তের ফোকাস এখন পাইলটদের কাজের দিকে। ৫৬ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন সুমিত সভরওয়াল ছিলেন সিনিয়র পাইলট, মনিটরিংয়ে। কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্ডার ছিলেন ফ্লাইং পাইলট।
দুজনেই ফিট ছিলেন প্রি-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট পাস, যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়া। তবু প্রশ্ন উঠছে সুইচগুলো কি ইচ্ছাকৃতভাবে অফ করা হয়েছিল? এটা কি একজনের একক সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি অন্য কোনও মানসিক অবস্থা বা ভুল বোঝাবুঝির ফল? তবে তদন্ত এখনও চলছে। AAIB বলছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কিছুই এখনও চূড়ান্তভাবে রুল আউট করা হয়নি।
ফাইনাল রিপোর্ট আসতে সময় লাগবে। কিন্তু এই খবর বিমানযাত্রীদের মনে ভয় ঢোকাচ্ছে। একটা বিমান যদি ককপিটের ভিতর থেকেই বিপদে পড়ে, তাহলে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ক্রু মনিটরিং, ককপিট রেকর্ডারের আরও ভালো অ্যানালিসিস এসব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।





