বিশেষ প্রতিবেদন:
ভোট চুরির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি করতে আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি হাইপ্রোফাইল ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের আহবানে আয়োজিত এই বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে আন্দোলনের পরবর্তী রণকৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত বিরোধী জোটের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখাই এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন, তোলপাড় আসমুদ্রহিমাচল! জ্ঞানেশকে এড়িয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি ২ নির্বাচন কমিশনারের!
এসআইআর ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে সরব বিরোধীরা
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং বিভিন্ন নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশজুড়ে সরব ভূমিকা পালন করছে বিরোধী শিবির। বিরোধী দলগুলির স্পষ্ট দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ার আড়ালে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার একটি সুসংহত চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই গুরুতর অভিযোগকে হাতিয়ার করেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনকে আরও বেশি সংগঠিত ও সংহত করতে চাইছে বিরোধী জোট।
সুপ্রিম কোর্টের দুয়ারে বিরোধীদের প্রতিবাদ মিছিল
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর দিল্লিতে ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছিলেন বিরোধী শিবিরের একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা। কড়া নিরাপত্তার ব্যারিকেড ও পুলিশের বলয় অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যান এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিবাদপত্র জমা দেন। মূলতঃ কেন্দ্রজুড়ে জমে ওঠা এই নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজপথে নিজস্ব শক্তির জানান দেওয়াই ছিল বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ভোট চুরির এই অভিযোগকে কেবল পথসভায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াই হিসেবেও জোরদার করতে চাইছে বিরোধীরা। সেই লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন সমানতালে চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘যেভাবে পেরেছে কেটেছে’ দশমীর সন্ধ্যায় মালদহের ইংরেজবাজারে বিজেপি কর্মীকে খুন; থমথমে ইংরেজবাজার
রাহুলের বাসভবনে চা-চক্র ও চূড়ান্ত আন্দোলনের বার্তা
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনে এক বিশেষ চা-চক্রে মিলিত হয়েছিলেন ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতৃত্বরা। সেই বৈঠকের পরেই বিরোধী নেতৃত্ব যৌথভাবে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে, ভোট চুরির অভিযোগের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদী লড়াইকে কোনোভাবেই থামতে দেওয়া হবে না। আন্দোলনের জল কতটা গড়ায় তা দেখতে লড়াইকে চূড়ান্ত ও যৌক্তিক পরিণতিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল জোট।
১ নভেম্বরের দিল্লির মহাসমাবেশের ওপর বিশেষ নজর
আজ বৃহস্পতিবারের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে আন্দোলনের সার্বিক রূপরেখা ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত সুবিশাল বিরোধীদের সমাবেশের প্রস্তুতি ও রূপরেখা পর্যালোচিত হবে। কী উপায়ে আমজনতা, আঞ্চলিক শক্তি এবং সিভিল সোসাইটির বিভিন্ন অংশকে এই জাতীয় ইস্যুতে ব্যাপকভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে জোরালো আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি ঘিরে বিরোধীদের তৈরি হওয়া এই সর্বভারতীয় আন্দোলন আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে কী মোড় নেয়, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।


