ভয়াবহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে স্বস্তি ফেরাতে এগিয়ে এল ভারত। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের (IBFP) মাধ্যমে প্রায় ৮২ লক্ষ লিটার (৮,২০০ কেএল) ডিজেল বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত।
আরও পড়ুনঃ ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে পারে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা; হলদিয়া জেটিতে পৌঁছল এমভি কনকলতা বড়ুয়া
১. সংকট ও ডিজেল সরবরাহের প্রেক্ষাপট
-
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট: মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলগুলি রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
-
ডিজেল নির্ভরতা: সংকট মোকাবিলায় ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। এই আবহে ভারতের পাঠানো এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্প খাতকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা নেবে।
-
নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরবরাহ: আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি (Numaligarh Refinery) থেকে এই জ্বালানি পাইপলাইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমানা পার করে সরাসরি বাংলাদেশে পৌঁছানো হয়, যা অত্যন্ত দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
২. ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা
-
মৈত্রী পাইপলাইন: ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া এই ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও নিরাপদ জ্বালানি পরিবহনের চুক্তি রয়েছে।
-
অতিরিক্ত সরবরাহের আর্জি: সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আর্জি জানানো হলে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং দ্রুত জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) জানিয়েছে, নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ি ফিরেছে ৬০০-রও বেশি ছাত্র-ছাত্রী! ভূতের আতঙ্ক অমরাবতীর হস্টেলে
৩. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য
কূটনৈতিক মহলের মতে, সংকটের সময়ে ভারতের এই দ্রুত পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতীক।
তবে এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু গোষ্ঠী ভারতবিরোধী রাজনৈতিক স্লোগান বা ‘দিল্লি না ঢাকা’ বিতর্ক তুললেও বাস্তবতার নিরিখে এই সংকটকালে প্রতিবেশীর সহযোগিতা দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন সচল রাখার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।


