অজিত কুমার ডোভাল। ভারতের নিজস্ব জেমস বন্ড। গত চার মাসে তিনবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন। হঠাত কী কারণে এই তৎপরতা? দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনে কান পাতলে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদীর চেয়েও বেশি ব্যস্ত যে মানুষ, সেই মানুষটি চার মাসে ঠিক কী কারণে তিন তিনবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করলেন ?
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের NSA আগেভাগে দিল্লি পৌঁছালেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
এত বছর পরেও রাজধানী দিল্লিতে আমার যে কয়জন সূত্র এখনও আছে, তাঁদের মতে, দিল্লি হামলার আগাম খবর ছিল ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে। এবং তিনি এও জানতেন, যে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, এবং জঙ্গী গোষ্ঠীগুলি এখন আর আজাদ কাশ্মীরকে ব্যবহার করছে না ভারতের ওপর আক্রমণ করার ইসুতে। বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট, আজাদ কাশ্মীরে নতুন আন্দোলন গড়ে ওঠা এবং আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একের পর এক পাকিস্তান বিরোধী আক্রমণ চলার কারণে, ভারতকে আক্রমণের মূল ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় ইসলামাবাদ এখন বাংলাদেশের মাটিকে বেশি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যে কাজটা চোরাগোপ্তা করতো পাকিস্তান, মহম্মদ ইউনুস ঢাকার প্রধান উপদেষ্টার পদে বসার পর তা এখন খুলে আম করছে ইসলামাবাদ। আর এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের সবচেয়ে দূর্বল এবং অ-সুরক্ষিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। সেই বাম আমল থেকে চলছে এই অনুপ্রবেশ। ভোটার বানিয়ে, আঁধার কার্ড এবং রেশন কার্ড দিয়ে তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তে বেশ লম্বা একটা অঞ্চল এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি। সেই অঞ্চল দিয়ে কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশীদের ছিল অবৈধ যাতায়াত। এই খুলে আম অনুপ্রবেশ বন্ধ করার কারণেই এস আই আর চালু করে নির্বাচন কমিশন। এবং এর পেছনে মূল কারিগর অজিত ডোভাল।
আরও পড়ুনঃ “পৃথিবীর গাড়ি তা থামাও”; সময়ের তুলনায় ১০০ বছর এগিয়ে
অজিত ডোভাল সমগ্র উপমহাদেশে এতোটাই জনপ্রিয় এক নাম যে স্বাধীনতার পরে এই চেয়ারে বসা আর কারোর নাম ভারতীয়রা না জানলেও, ডোভালের নাম সকলেই জানেন। কেরালা ক্যাডারের প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসারের জীবনপঞ্জী পর্যন্ত মুখস্থ একশো কোটি ভারতীয়র। বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে ডেকে পাঠিয়েছেন ডোভাল তাঁর দিল্লি অফিসের ঘরে। ইউনূস সরকার বাংলাদেশের তখতে বসার পর থেকে, যে ভাবে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চলছে, তাতে একেবারে চিরস্থায়ী দাড়ি টানতে। সাউথ ব্লকের কাছে আগাম খবর আছে, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে ইসলামাবাদ। তাই আগে থেকেই সমঝে দিতে চায় দিল্লি। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটলে, ভারত বাংলাদেশে আঘাত হানতে এক মুহূর্ত ভাববে না বলেই জানা গিয়েছে।
সাউথ ব্লকের খবর, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জেলা– উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বালুরঘাট এবং দক্ষিণ দিনাজপুর– সবচেয়ে বেশি নজরে ডোভালের দফতরের। সাম্প্রদায়িক সুস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোর তাগিদ এবং দায়িত্ব এখন আর শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়। সঙ্গে অজিত ডোভালের দফতর-ও এই বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানা গিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব সব কিছুর আগে। তাই যেই রাজনৈতিক দলই হোক না কেনও, ছাপ্পা ভোট মারার দিন বোধহয় এবার শেষ। শেষ ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার-ও। কোনও বাংলাদেশী জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে একজনও ভারতীয় নাগরিকের যেন প্রাণ না যায়– এটা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন নির্বাচন কমিশনের এবং অজিত ডোভালের অফিসের।
সমাজ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর চালু হতে না হতেই ঘর ছাড়তে শুরু করেছে অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ। যাঁরা স্বেচ্ছায় এই বাংলা ছেড়ে ওপার বাংলায় ফিরে যাচ্ছেন, তাঁদের সবরকম সহযোগীতা করছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। যাঁরা এরপরেও এবাংলায় থেকে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন, তাঁদের সুন্দরবনে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানোর সব রকম ব্যবস্থা করে ফেলেছে ভারতের সরকার। বাম আমল থেকে চলতে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশ হয়তো এবার একেবারের মতো বন্ধ হবে বলে রাজনৈতিক মহলের বিশ্বাস। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের মনে প্রশ্ন একটাই বিহারের মতো “অশান্ত” রাজ্যে যদি রক্তপাতহীন, রি-পোলিং ব্যতিত নির্বাচন হতে পারে, তাহলে এই বঙ্গে নয় কেনও? বিহারে যেখানে মহিলাদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে দেখা গিয়েছে, সেখানে কেনও ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে যাবে এই বঙ্গে ? এই সবের উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করে থাকতে হবে আগামী বছর মে মাস পর্যন্ত।









