spot_img
Saturday, 7 February, 2026
7 February
spot_img
HomeকলকাতাKolkata Book Fair 2026: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, বই পাঠকদের আবেগ ও উৎসবের...

Kolkata Book Fair 2026: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, বই পাঠকদের আবেগ ও উৎসবের নাম!

এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র,কলকাতাঃ

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা বা “International Kolkata Book Fair“(IKBF) একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী নয়।আসলে,এটি বাঙালি জাতিসত্তা এবং মননের প্রতিচ্ছবি।প্রতি বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এই মেলাটি তার বিপুল জনসমাগমের জন্য বিখ্যাত।এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব।

আরও পড়ুনঃ ‘আজব অফার’ বাংলার স্কুলে! একজন ভর্তিতে ৪৫০ টাকা, তিন সন্তান হলেই ছাড়; শোরগোল জলপাইগুড়িতে

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:জন্মলগ্ন ও প্রাথমিক প্রেরণা (১৯৭৬)

​কলকাতা বইমেলার সূচনা হঠাৎ করে হয়নি,বরং এটি তৎকালীন প্রকাশনা শিল্পের চাহিদা এবং ইউরোপীয় বইমেলার মডেল অনুসরণ করে একটি সচেতন প্রয়াসের ফল।

তখন,১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে,কলকাতায় প্রকাশনা শিল্পে নতুন বইয়ের প্রকাশনা বাড়লেও,বই বিক্রির জন্য কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের মঞ্চ বা ক্ষেত্র বাঙালী প্রকাশকদের কাছে ছিল না।তাই প্রায়শই,প্রকাশকদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত মেলার অভাব অনুভূত হচ্ছিল।

​এরপর,১৯৭৬ সালে, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড-এর উদ্যোগে প্রথম কলকাতা বইমেলার আয়োজন করা হয়।এই মেলা আয়োজনের প্রাথমিক প্রেরণা এসেছিল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ও অন্যান্য ইউরোপীয় বইমেলার সফলতা থেকে। প্রথম দিকে মেলাটি ছোট পরিসরে হলেও, পাঠকের অভূতপূর্ব সাড়া পেতে শুরু করে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৮৪ সালে মেলাটি আন্তর্জাতিক বইমেলা-র স্বীকৃতি লাভ করে। এই স্বীকৃতির পর থেকেই বিদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ এবং মেলার মান দ্রুত উন্নত হতে শুরু করে। এর ফলে কেবল ভারতীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাহিত্য ও সংস্কৃতি কলকাতার পাঠকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর সুযোগ পায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: উৎসব ও বাণিজ্যের মেলবন্ধন

বর্তমানে কলকাতা বইমেলা মূলত বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গণে (বর্তমানে স্থায়ী মিলন মেলা প্রাঙ্গণ) অনুষ্ঠিত হয়।বর্তমান গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে,

* বিশ্বের বৃহত্তম অ-বাণিজ্যিক মেলা:

ফ্রাঙ্কফুর্ট বা লন্ডনের মতো বাণিজ্যিক মেলাগুলোর বিপরীতে, কলকাতা বইমেলা মূলত খুচরো বই বিক্রির উপর জোর দেয়। এই কারণে এটি সাধারণ পাঠক এবং পরিবারের জন্য একটি বিশাল সাংস্কৃতিক উৎসব।

* থিম কান্ট্রি প্রথা:

প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দেশকে ‘ফোকাল থিম কান্ট্রি’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এই দেশ সেই বছর তাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মেলার মাধ্যমে তুলে ধরে। এটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিনিময়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

* সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও লিটল ম্যাগাজিন:

মেলায় মূল মঞ্চে সারা দিন ধরে সাহিত্য আলোচনা,সেমিনার, লেখক-পাঠক আলাপচারিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে।এছাড়াও ‘লিটল ম্যাগাজিন চত্বর’ মেলাটিকে একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র দেয়, যেখানে তরুণ ও স্বাধীন সাহিত্যকর্মীরা তাদের ব্যতিক্রমী সৃষ্টি তুলে ধরার সুযোগ পান।।

আরও পড়ুনঃ তাপমাত্রা নেমে ১০ ডিগ্রি; এ সপ্তাহ স্কুল ছুটি থাকবে! বল নবান্নের কোর্টে

কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা নিয়ে প্রধান বিতর্কসমূহ!

কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যা মেলার মূল আকর্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

* স্থান পরিবর্তনজনিত অসুবিধা

দীর্ঘকাল ময়দান এবং পরে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করার পর,স্থানটিকে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণ-এ স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়,এই স্থান পরিবর্তনই বিতর্কের জন্ম দেয়! আসলে,নতুন স্থানটি শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত।ফলে,অনেক বইপ্রেমী,বিশেষ করে দক্ষিণ বা পশ্চিম কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য যাতায়াতের দূরত্ব বেড়েছে।

* পরিকাঠামোজনিত অব্যবস্থাপনা

মেলার সময় করুণাময়ী এবং সল্টলেক অঞ্চলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।তাছাড়াও,অপর্যাপ্ত পার্কিং-এর কারণেও, দর্শনার্থীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।যদিও,মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে,তবুও ভিড়ের চাপ সামাল দিতে তা যথেষ্ট নয় বলে সমালোচিত হয়।

বর্তমান সেন্ট্রাল পার্কের মাঠটি স্থায়ী মেলা প্রাঙ্গণ হলেও, বর্ষা বা অন্যান্য সময়ে মাঠের প্রস্তুতি এবং স্টল নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেও কাদা ও জল জমে স্টলের কর্মীদের এবং ক্রেতাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

* বাণিজ্যিকীকরণ বনাম সাহিত্যের মর্যাদা

বর্তমানে বইমেলা কেবল বইয়ের প্রদর্শনী না থেকে এক বিশাল লোক-উৎসবে পরিণত হয়েছে,যা মেলার উদ্দেশ্যকেই বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে! মেলার মধ্যে টি-শার্ট, হাতে আঁকা জিনিস, গয়না, ঘর সাজানোর সামগ্রী, এবং বিশেষত খাবারের স্টলের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, এতে মেলার মূল “বইকেন্দ্রিক” মেজাজ নষ্ট হচ্ছে এবং এটি একটি সাধারণ বাণিজ্য মেলায় পরিণত হচ্ছে।

অনেকে অভিযোগ করেন, কেবল মেলা উপলক্ষে দ্রুত বই প্রকাশ করার জন্য কিছু প্রকাশক বইয়ের গুণগত মান এবং সম্পাদনার ক্ষেত্রে আপস করছেন। তাড়াহুড়ো করে প্রকাশিত এই বইগুলি প্রকৃত পাঠককে হতাশ করে।

* আন্তর্জাতিকতার অভাব! ও রাজনৈতিক প্রভাব!

* বিদেশী অংশগ্রহণ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাতে কমে গিয়েছে,বলে অনেকে মনে করেন।শুধুমাত্র,থিম দেশ ছাড়া অন্য আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের অংশগ্রহণ অনেক সময় সীমিত থাকে।যা, মেলার “আন্তর্জাতিক” নামের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বর্তমানে,মেলার উদ্বোধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি এবং তাদের বক্তৃতা অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকে মনে করেন,মেলায় সাহিত্য-সংস্কৃতির চেয়ে রাজনীতি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

* প্রকাশকদের মধ্যে বৈষম্য ও পরিকল্পণাগত ত্রুটি

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড (আয়োজক সংস্থা) কর্তৃক স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ছোট ও নতুন প্রকাশকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে যে, বড় এবং প্রভাবশালী প্রকাশকরাই মেলার প্রধান ও সুবিধাজনক স্থানগুলি পেয়ে যান, যেখানে ছোট প্রকাশকদের স্টলগুলি কোণে বা কম ভিড়ের জায়গায় বরাদ্দ করা হয়।মেলার পরিসর বাড়লেও,নতুন নতুন প্রকাশকদের জায়গা দেওয়া এবং পুরনো স্টলগুলির মাপ নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই বিতর্ক সৃষ্টি হয়।নতুন প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

মেলার সঙ্গে আয়োজিত কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও,সমালোচকরা বলেন যে,এই সাহিত্য উৎসবটি মেলার মূল চত্বর থেকে কিছুটা দূরে এবং এটি কেবলমাত্র কিছু নির্বাচিত সাহিত্যিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা গত অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাঙালির জীবনে একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে যে বীজ বপন করা হয়েছিল,তা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে।স্থান পরিবর্তনের বিতর্ক, বাণিজ্যিক চাপ বা ডিজিটাল যুগের প্রভাব সত্ত্বেও,এই মেলা পাঠকের আবেগ এবং বইয়ের প্রতি ভালোবাসা দ্বারা চালিত হয়ে চলেছে।এটি কেবল বই বিক্রি নয়, বরং ভাষা, সংস্কৃতি এবং মানবিক সম্পর্কের এক অনবদ্য উদযাপন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন